Home Blog

মুয়াত্তা মালিক গ্রন্থের আট রাকাত কিয়ামুল লাইলের জবাব

মুয়াত্তা মালিক গ্রন্থের ৮ রাকাত কিয়ামুল লাইলের জবাব :

মুয়াত্তা মালিক গ্রন্থে ‘মুহাম্মদ বিন ইউসুফ’ হতে বর্ণিত ১১ রাকাতের কিয়ামুল লাইলের রেওয়ায়েতটি স্বয়ং বর্ণনাকারী মতেও অগ্রহণযোগ্য। যে কথা বর্তমান যুগের অধিকাংশ মানুষই অনুসন্ধান করে দেখতে চান না।

মু’য়াত্তা-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ الاستذكار এর মধ্যেই হাফিয ইমাম ইবনে আব্দিল বার আল মালেকী (রহ.) এ সম্পর্কে পরিষ্কার লিখে গেছেন যে,

أَنَّ الْأَغْلَبَ عِنْدِي فِي إِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً الْوَهْمُ

অর্থাৎ আমার প্রবল ধারণা {হাদীসটির} إِحْدَى عَشْرَةَ “এগারো” কথাটি একটি ওহাম বা ত্রুটি।

তিনি উমর (রা.)-এর যুগের ২০ রাকাত তারাবীহ’র বিবরণ সম্বলিত কয়েকটি বর্ণনা উল্লেখ করে বলেন,

وَهَذَا كُلُّهُ يَشْهَدُ بِأَنَّ الرِّوَايَةَ بِإِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً وَهْمٌ وَغَلَطٌ وَأَنَّ الصَّحِيحَ ثَلَاثٌ وَعِشْرُونَ وَإِحْدَى وَعِشْرُونَ رَكْعَةً وَاللَّهُ أَعْلَمُ

“এ সকল বর্ণনা এ কথার সাক্ষ্য দেয় যে, ১১ রাকাত পড়ার কথাটি ভ্রম ও ভুল। সঠিক বর্ণনা হচ্ছে, (তিন রাকাত বিতর সহ) ২৩ রাকাত এবং (এক রাকাত বিতর সহ) ২১ রাকাত, আল্লাহু আ’লাম।”

(আল ইসতিযকার ৫/১৫৪, ৫৬ তাহকীক, শায়খ আব্দুল মু’তী।)।

ইমাম ইবনু আব্দিল বার (রহ.) ১১ এবং ২১ রাকাতের মধ্যে সামঞ্জস্যতার বিধান করতে চেয়ে এ কথাও বলেছেন যে, হযরত উমর (রা.) প্রথমদিকে বিতর ব্যতীত ৮ বা ১০ রাকাতের নির্দেশ হয়তো বা দিয়েছিলেন, কিন্তু পরবর্তীতে তিনি ২০ রাকাতের উপরই ইজমা (ঐক্যমত) প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ইমাম ইবনুল হুমাম (রহ.)ও তার ‘ফাতহুল মুলহিম’ কিতাবের ৪৮৫ নং পৃষ্ঠায় এমন কথা লিখে গেছেন। ইমাম ইবনু আব্দিল বার (রহ.) এর কিতাবের ভাষায় নিম্নরূপ,

إِلَّا أَنَّهُ يَحْتَمِلُ أَنْ يَكُونَ الْقِيَامُ فِي أَوَّلِ مَا عُمِلَ بِهِ عُمَرُ بِإِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً، ثُمَّ خُفِّفَ عَلَيْهِمْ طُولُ الْقِيَامِ، وَنَقَلَهُمْ إِلَى إِحْدَى وَعِشْرِينَ رَكْعَةً، يُخَفِّفُونَ فِيهَا الْقِرَاءَةَ وَيَزِيدُونَ فِي الرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ، إِلَّا أَنَّ الْأَغْلَبَ عِنْدِي فِي إِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً الْوَهْمُ، وَاللَّهُ أَعْلَمُ.

“কিন্তু এটাও সম্ভব যে, উমর (রা.)-এর যুগে এগারো রাকাতের বিষয়টি প্রথমে ছিলো, তারপর তিনি মুসল্লিদের জন্য কিয়ামের দৈর্ঘ্য কমিয়ে রাকাত সংখ্যা বৃদ্ধি করে (এক রাকাত বিতির সহ) একুশে রূপান্তরিত করেন। অতঃপর সাহাবীগণ তিলাওয়াত সংক্ষিপ্ত করে রুকূ-সিজদাহ বাড়িয়ে নেন। কিন্তু, আমার প্রবল ধারণা হল, إِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً الْوَهْمُ তথা ‘এগারো’ কথাটি একটি ওহাম বা ভ্রম।” (আল ইসতিযকার ২:৬৮, কিতাবুস সালাত ফী রমাযান)।

নোট : আরবি শব্দ “الْوَهْمُ” (আল-ওয়াহমু) এর সরল বাংলা অর্থ হলো, ভ্রম। অর্থাৎ বাস্তবতা না জেনে বা ভুলভাবে কিছু কল্পনা করাকে وهم বলা হয়।

আসল আলাপ :

প্রথমকথা হল, সায়িব ইবনে ইয়াযীদ (রা.) থেকে ইয়াযীদ ইবনে খুসায়ফা (রহ.)-এর রেওয়ায়েত [বিতির+কিয়ামুল লাইল ১+২০/৩+২০] ইযতিরাব-মুক্ত তথা সুশৃঙ্খল কিন্তু একই সাহাবী থেকে মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ (রহ.)-এর রেওয়ায়েত (২১/১১/১৩) ইযতিরাব-মুক্ত নয়, বরং মূল-টেক্সটে গড়মিল রয়েছে। যেমন, তার থেকে ৪ ব্যক্তি এটি বর্ণনা করেছেন। তন্মধ্যে,

(১) ইসমাঈল ইবনে উমাইয়্যাহ ১১ এবং ২১ রাকাত দু’রকমই বর্ণনা করেছেন, এ ক্ষেত্রে মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ ২১ রাকাতকেই (قَالَ مُحَمَّدٌ: أَوْ قُلْتُ لِإِحْدَى وَعِشْرِينَ) জোরালোভাবে স্বীকৃতি দিয়ে গেছেন। ইমাম হাকেম সংকলিত ‘আল ফাওয়ায়েদ’ ১:১৩৫ দ্রষ্টব্য।

(২) দাউদ ইবনে কায়েস (রহ.) ২১ রাকাত। মুসান্নাফ ইবনে আব্দির রাজ্জাক হাদীস নং ৭৭৩০ দ্রষ্টব্য।

(৩) মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক (রহ.) ১৩ রাকাত। ইমাম মুহাম্মদ ইবনে নছর আল মারওয়াযী সংকলিত ‘কিয়ামুল লাইল’ দ্রষ্টব্য, আরও দেখুন ফাতহুল বারী ৪:৩১৯।

(৪) ইমাম মালেক ইবনে আনাস (রহ.) ১১ রাকাত। মুয়াত্তা মালেক হাদীস নং ১১৫ দ্রষ্টব্য। অতএব, ইযতিরাব থাকার বিষয়টি এখন পরিষ্কার।

দ্বিতীয়তঃ বর্ণনাকারী মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ স্বয়ং নিজেই ২১ রাকাতের বর্ণনাকে প্রাধান্য ও স্বীকৃতি দিয়ে গেছেন কোথায় এবং কিভাবে, তা দেখুন!

ইমাম আবু বকর নিশাপুরী, ইসমাঈল ইবনে উমাইয়া সূত্রে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ ও ইয়াযীদ ইবনে খুসাইফা থেকে, তারা উভয়ে সায়িব ইবনে ইয়াযীদ (রা.) থেকে….. বর্ণনা করেছেন,

حَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ سَعِيدٍ، ثَنَا حَجَّاجٌ، عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ، حَدَّثَنِي إِسْمَاعِيلُ بْنُ أُمَيَّةَ أَنَّ مُحَمَّدَ بْنَ يُوسُفَ ابْنُ أُخْتِ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ أَخْبَرَهُ أَنَّ السَّائِبَ بْنَ يَزِيدَ أَخْبَرَهُ قَالَ: جَمَعَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ النَّاسَ عَلَى أَبِي بْنِ كَعْبٍ، وَتَمِيمِ الدَّارِيِّ، فَكَانَا يَقُومَانِ بِمِئَةٍ فِي رَكْعَةٍ فَمَا يَنْصَرِفُ حَتَّى نَرَى أَوْ نَشُكُّ فِي فُرُوعِ الْفَجْرِ، قَالَ فَكُنَّا نَقُومُ بِأَحَدَ عَشَرَ، قُلْتُ أَوْ وَاحِدٍ وَعِشْرِينَ، قَالَ: لَقَدْ سَمِعَ ذَلِكَ مِنَ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ ابْنُ خُصَيْفَةَ، فَسَأَلْتُ يَزِيدَ بْنَ خُصَيْفَةَ؟ فَقَالَ: أَحْسَنْتَ، إِنَّ السَّائِبَ قَالَ إِحْدَى وَعِشْرِينَ، قَالَ مُحَمَّدٌ: أَوْ قُلْتُ لِإِحْدَى وَعِشْرِينَ، قَالَ أَبُو بَكْرٍ: هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ لَوْ كَانَ عِنْدَ عَلِيِّ بْنِ مُدِينِي لَفَرِحَ بِهِ إِلَّا أَنَّهُ قَالَ: ابْنُ أُخْتِ السَّائِبِ..

বাংলা অনুবাদ : ইসমাঈল ইবনে উমাইয়া (রহ.) মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ থেকে বর্ননা করেন, সায়িব বিন ইয়াযীদ (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, ওমর (রা.) উবাই বিন কা’ব এবং তামিম আদ দারির সাথে তারাবীহ পড়ার জন্য লোকজনকে জড় করেছেন। তারা দুইজন ১ রাকাতে ১০০ আয়াত পড়তেন, যতক্ষণ না আমরা দেখতাম বা আমাদের মনে হতো ভোর হয়ে যাবে ৷ তিনি বলেন, আমরা ১১ রাকাত পড়তাম । আমি বললাম, অথবা ২১ রাকাত ৷ মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ বলেন, অবশ্যই সায়িব বিন ইয়াজিদ (রা.) থেকে ২১ রাকাতের বিষয়টি শুনেছে ইয়াযীদ ইবনে খুসাইফা (রহ.)। এরপর আমি (ইসমাঈল ইবনে উমাইয়া) ইয়াযীদ ইবনে খুসাইফাকে জিজ্ঞাসা করলাম; ইবনে খুসাইফা (রহ.) বললেন, তুমি উত্তম-ই বলেছো, নিশ্চয় সায়িব (রা.) ২১ রাকাতের কথাই বলেছেন। (অতপর) মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ বলেন, অথবা আমিই বলেছি ২১ রাকাত ৷

{ইমাম আবু বকর হাকেম নিশাপুরী বলেছেন, এর সনদ হাসান}।

(‘ফাওয়াইদ’ আবু বকর নিশাপুরীঃ মাকতাবাতুশ শামেলাঃ ১৬ নং হাদীস। আল ফাওয়ায়েদ পান্ডুলিপি ১/১৩৫)।

(পয়েন্টঃ ১) মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফের স্বীকৃতি কিভাবে দেখা যাক,

প্রথম স্বীকৃতি: قَالَ فَكُنَّا نَقُومُ بِأَحَدَ عَشَرَ، قُلْتُ أَوْ وَاحِدٌ وَعِشْرُونَ “তিনি (মুহাম্মদ) বলেন, আমরা ১১ রাকাত পড়তাম । আমি (মুহাম্মদ) বললাম, অথবা ২১ রাকাত।”

(পয়েন্টঃ ২) ইয়াযীদ ইবনে খুসাইফা (রহ.) সায়িব (রা.) থেকে ২১ রাকাতের কথা শুনেছেন। এ কথার স্বীকৃতি দিচ্ছেন মুহাম্মাদ ইবনে ইউসুফ: قَالَ: لَقَدْ سَمِعَ ذَلِكَ مِنَ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ ابْنُ خُصَيْفَةَ “তিনি (মুহাম্মদ) বলেন, অবশ্যই ইবনে খুসাইফা সায়িব বিন ইয়াযীদ (রা.) থেকে (২১ রাকাতের) বিষয়টি শুনেছে।”

(পয়েন্টঃ ৩) বর্ণনাকারীর প্রশ্নের জবাবে ইয়াযীদ ইবনে খুসাইফা তাগিদের সাথে/নিশ্চয়তার সাথে উত্তর দেন: فَقَالَ: أَحْسَنْتَ، إِنَّ السَّائِبَ قَالَ إِحْدَى وَعِشْرِينَ “তুমি উত্তম-ই/ঠিক-ই/সুন্দর-ই বলেছো। নিশ্চয় সায়িব ইবনে ইয়াযীদ (রা.) ২১ রাকাতের কথাই বলেছেন।”

(পয়েন্টঃ ৪) এখন মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফের স্বীকৃতি দিয়ে বললেন: قَالَ مُحَمَّدٌ: أَوْ قُلْتُ لِإِحْدَى وَعِشْرِينَ “মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ বলেন, অথবা আমিই বলেছি ২১ রাকাত ৷”

এই বর্ণনাটির খণ্ডিত অংশ শায়খ আলবানী সাহেব শব্দগত এদিক-ওদিক করে নিজ ‘সালাতুত তারাবীহ’ গ্রন্থের ৫০ নম্বর পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন। তারপর তিনি নিজেও লিখতে বাধ্য হন, قُلْتُ: وَسَنَدُهُ صَحِيحٌ “আমি (আলবানী) বলি, এই বর্ণনাটির সনদ সহীহ।” (সালাতুত তারাবীহ ৫০ নং পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য)। তবে এতে শায়খ আলবানী (রহ.) দুইটি নিন্দনীয় কাজ করেছেন।

নিন্দনীয় কাজ দুটো :

১. এই ইবারতটুকু গায়েব করে দিয়েছেনঃ قَالَ مُحَمَّدٌ: أَوْ قُلْتُ لِإِحْدَى وَعِشْرِينَ তথা মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ বলেন, অথবা আমিই বলেছি ২১ রাকাত ৷ তিনি এটি ভুলক্রমে করে থাকলে আল্লাহ ক্ষমা করুন।

২. বর্ণনাটির একটি শব্দ শামেলা’র সফট কপিতে স্পষ্ট এভাবে আছেঃ أحسنتَ অর্থ তুমি উত্তম/সুন্দর/সঠিক বলেছো, আর কলমি নোসখা’র পাদটীকায় লিখা আছে, حَسُنْتُ أَرَانَ بِهِ অর্থাৎ তুমি সুন্দর/উত্তম/ঠিক বলেছো (উচ্চারণঃ হাসসানতা আরানা বিহী)।

আফসোস, শায়খ আলবানী সাহেব শব্দটিকে পরিবর্তন করে লিখেছেনঃ حَسِبْتُ (হাসিবতু) অর্থাৎ আমি ধারণা করছি। ফলে হাদীসের বাক্যটি দাঁড়ালোঃ حَسِبْتُ أَنَّ السَّائِبَ قَالَ: أَحَدٌ وَعِشْرُونَ অর্থ- আমি (ইবনে খুসাইফা) ধারণা করছি যে, সায়িব (রা.) বলেছেন ২১ রাকাত’। শায়খ আলবানী সাহেব শব্দটি যদি ভুলক্রমেই পরিবর্তন করে থাকেন, তাহলে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন।

আলোচনার সারাংশ :

পরিশেষে বর্ণনাটি থেকে স্পষ্ট হল যে, মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ, সায়িব ইবনে ইয়াযীদ (রা.) থেকে ১১ এবং ২১ রাকাত বর্ণনা করেছেন। আর ইয়াযীদ ইবনে খুসাইফা (রহ.) সায়েব ইবনে ইয়াযীদ থেকে ২১ রাকাত বর্ণনা করেছেন। এ পর্যায় ফলাফল দাঁড়াল, ১১ রাকাতের মতটি একমাত্র মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফের মত আর অপরদিকে ২১ রাকাতের মতটি মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ এবং ও ইয়াযীদ ইবনে খুসায়ফা উভয়েরই মত। কাজেই যুক্তি আর বিবেকের দাবীতে, প্রথমোক্ত মত অপেক্ষা শেষোক্ত ২১ রাকাতের মতটিই প্রধান্য পাবে। এরই ভিত্তিতে হযরত উমর (রা.)-এর যুগের ২০ রাকাত তারাবীহ ইযতিরাবমুক্ত, অপরদিকে ৮ রাকাত তারাবীহ ইযতিরাবযুক্ত বা শায (شاذ) বলেই প্রতীয়মান হয়। আল্লাহু আ’লাম।

এবার ‘মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ’ নামীয় পূর্বোক্ত ১১ রাকাত সম্বলিত রাবী থেকেই ২১ রাকাতের রেওয়ায়েত দেখুন!

ইমাম আব্দুর রাজ্জাক আস-সান’আনী থেকে, তিনি দাউল ইবনে কায়স থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ থেকে, তিনি সায়িব ইবনে ইয়াযীদ (রা.) থেকে,

عَنْ دَاوُدَ بْنِ قَيْسٍ، وَغَيْرِهِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يُوسُفَ، عَنْ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ، أَنَّ عُمَرَ: جَمَعَ النَّاسَ فِي رَمَضَانَ عَلَى أَبِي بْنِ كَعْبٍ، وَعَلَى تَمِيمِ الدَّارِيِّ عَلَى إِحْدَى وَعِشْرِينَ رَكْعَةً يَقْرَءُونَ بِالْمِئِينَ وَيَنْصَرِفُونَ عِنْدَ فُرُوعِ الْفَجْرِ

বাংলা অনুবাদ : দাউদ ইবনে কায়েস এবং অন্যন্যদের থেকে বর্ণিত, মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ সাহাবী সায়িব ইবনে ইয়াযীদ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, হযরত উমর (রা.) রমাযান মাসে উবাই ইবনে কা‘ব এবং তামীমে দারী (রা.)-এর পেছনে সবাইকে (বিতির এক রাকাত সহ) ২১ রাকাত সালাতের উপর ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। (মুসান্নাফে আব্দির রাজ্জাক, হাদীস নং ৭৭৩০ দ্রষ্টব্য)।

সংক্ষেপে।

তারাবীহ আট রাকাত পড়লে সুন্নাহ আদায় হবে কি?

প্রশ্ন : শায়খ! আহলে হাদীসরা বলে, তারাবীহ সালাত নাকি ৮ রাকাতই সুন্নাহ, ২০ রাকাত পড়লে নাকি “সুন্নাহ” আদায় হবেনা?

উত্তর : না, রাসূল (সা.) তারাবীহ ৮ রাকাতের বেশি পড়েননি একথা ঠিক নয়। তিনি কখনো ১০ রাকাত পড়েছেন কখনো ১২ রাকাতও পড়েছেন। তবে সাহাবীরা ২০ রাকাত-ও পড়েছেন। আর “সুন্নাহ” মানার ক্ষেত্রে সাহাবীরা আমাদের জন্য হুজ্জত বা প্রমাণ। এককথায় রাসূল (সা.)-এর কিয়ামুল লাইল বা তারাবীহ’র ক্ষেত্রে রাকাত সংখ্যা নির্দিষ্ট ছিলনা। যেজন্য এ ক্ষেত্রে “সুন্নাহ” কোনটি সেটির জন্য সাহাবীরা আমাদের জন্য হুজ্জত বা প্রমাণ।

যারা আট (৮) রাকাত পড়তে চান, পড়ুন। কিন্তু তাদেরকে বলব, এ ক্ষেত্রে আপনারা দু’টা কাজ করবেন। (এক) সময়টা আরেকটু বাড়িয়ে দিন (দুই) বারো মাসব্যাপী পড়তে থাকুন। কেননা, আহলে হাদীসরা যে ৮ রাকাতের কথা বলেন সেই ৮ রাকাত তারা যে সময় নিয়ে পড়েন রাসূল (সা.) কিন্তু সেই সময় নিয়ে পড়েননি, বরং তিনি সারা রাত্রি ধরে পড়তেন, কখনো কখনো ফজরের ওয়াক্ত হয়ে যেত, আর তিনি (সা.) এ ধরনের কিয়ামুল লাইল বারো বছরব্যাপী করতেন। এভাবে ৮ রাকাত পড়তে পারলে তখন আর কোনো আপত্তি থাকবেনা।

(উত্তরদাতা শায়খ খন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর হানাফী, আসারী রাহিমাহুল্লাহ)।

সাহাবায়ে কেরামগণের সর্বসম্মত আমল অনুসারে তারাবীহ কত রাকাত?

প্রশ্ন : ইজমায়ে সাহাবা তথা সাহাবায়ে কেরামগণের সর্বসম্মত আমল অনুসারে তারাবীহ কত রাকাত পড়া সাব্যস্ত? তাহকীক সহ লিখুন।

উত্তর : সাহাবায়ে কেরামগণের সর্বসম্মত আমল অনুসারে তারাবীহ বিশ (২০) রাকাত পড়া সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ। তবে ওজর-বশত এ সংখ্যায় কমবেশি করাও জায়েজ। কেননা রাসূল (সা.) থেকে এই সালাতের সুনির্দিষ্ট ও চূড়ান্ত কোনো রাকাতের উল্লেখ পাওয়া যায় না। কিন্তু হযরত উমর (রা.) এর যুগে জামাতের সাথে ২০ রাকাত পড়ার নিয়মটি চালু হয় এবং পরবর্তীতে সমগ্র উম্মতে মুহাম্মদীয়ার মধ্যে এই নিয়মটি প্রতিষ্ঠিত ও ব্যাপক আমল হিসেবে জনপ্রিয়তা লাভ করে।

(ক) উমর (রা.)-এর আমল :

ইমাম মালেক (রহ.) মুয়াত্তা-তে বর্ণনা করেছেন,

رَوَى الْإِمَامُ مالك بن أنس فِي الموطأ فَقَالَ: حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِكٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يُوسُفَ، عَنْ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ أَنَّهُ قَالَ:
أَمَرَ عمر بن الخطاب بْنُ الْخَطَّابِ أبي بن كعب وَتميم الداري أَنْ يَقُومَا لِلنَّاسِ بِإِحْدَى وَعِشْرِينَ رَكْعَةً

বাংলা অনুবাদ : “হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) উবাই ইবনে কা‘ব ও তামীম আদ-দারীকে লোকদের নিয়ে একুশ রাকাত (তারাবীহ ২০+ বিতর ১) পড়াতে নির্দেশ দেন।”

রাবীদের অবস্থা :

(১) ইয়াহইয়া (ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া আল-লাইসি) –
ইমাম মালিকের নির্ভরযোগ্য ছাত্র। একজন
ছিকাহ (বিশ্বস্ত) রাবী।
(২) ইমাম মালিক (রহ.) –
তিনি ইমাম, হাফিয, সর্বসম্মতভাবে সিকাহ।
(৩) মুহাম্মাদ ইবনে ইউসুফ (মুহাম্মাদ ইবনে ইউসুফ আল-ফিরিয়াবি নন; এখানে মাদানী রাবী) –
অধিকাংশ মুহাদ্দিসের নিকট তিনিও একজন সিকাহ রাবী।
(৪) সায়িব ইবন ইয়াযীদ (রা.) –
তিনি একজন সাহাবী, আর সাহাবীর বর্ণনা স্বীকৃত (সকল সাহাবী আদিল তথা ন্যায়পরায়ণ)।

হাদীসের মান :

এই বর্ণনাটি মাওকূফ (সাহাবীর বক্তব্য/কর্ম) — কারণ এটি عمر بن الخطاب (রা.)-এর নির্দেশ সংক্রান্ত।
সনদটি সহীহ (صحيح) — কারণ সকল রাবী সিকাহ বা নির্ভরযোগ্য এবং সনদ মুত্তাসিল (সংযুক্ত)। ইমাম বায়হাক্বী (রহ.) একে সহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন। ইবনু আবী শাইবাহ (রহ.)-এর রেওয়ায়েতেও এর সমর্থন পাওয়া যায়।

(খ) ইমাম বায়হাক্বীর ‘আস সুনানুল কোবরা লিল-বায়হাক্বী’ গ্রন্থে হযরত ইয়াযীদ ইবনে সায়িব (রা.) থেকে, (সনদ সহ) নিম্নরূপ,

رَوَاهُ الْإِمَامُ البيهقي فَقَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحُسَيْنِ بْنِ فَنْجُوَيْهِ الدِّينَوَرِيُّ بِالدَّامِغَانِ، ثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ السُّنِّيُّ، أَنْبَأَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ الْبَغَوِيُّ، ثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْجَعْدِ، أَنْبَأَ ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ خُصَيْفَةَ، عَنِ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ قَالَ: كَانُوا يَقُومُونَ عَلَى عَهْدِ عمر بن الخطاب رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فِي شَهْرِ رَمَضَانَ بِعِشْرِينَ رَكْعَةً. قَالَ: وَكَانُوا يَقْرَءُونَ بِالْمِئِينَ، وَكَانُوا يَتَوَكَّؤُونَ عَلَى عِصِيِّهِمْ فِي عَهْدِ عثمان بن عفان رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ مِنْ شِدَّةِ الْقِيَامِ.

বাংলা অনুবাদ : ইবনে আবী যি’ব থেকে, তিনি ইয়াযীদ ইবনে খুসায়ফা থেকে তিনি ইয়াযীদ ইবনে সায়িব (রা.) থেকে….হযরত উমর (রা.)-এর যুগে রমযান মাসে লোকজন বিশ রাকাত তারাবীহ আদায় করতেন। তিনি আরও বলেন, তাঁরা সালাতে শতাধিক আয়াত বিশিষ্ট সূরা সমূহ পড়তেন এবং উসমান ইবনে আফফান (রা.)-এর যুগে দীর্ঘ সালাতের কারণে তাদের (কেউ কেউ) লাঠিসমূহে ভর দিয়ে দাঁড়াতেন। (আস সুনানুল কোবরা লিল-বায়হাক্বী ২/৪৯৬, মুসনাদে ইবনে জা’দ হাদীস নং ২৮২৫)।

সনদের মান :

ইমাম তকি উদ্দীন সুবকি, ওলীউদ্দীন ইরাকী, বদরুদ্দীন আইনী, সুয়ূতী, ইমাম নববী এমনকি আধুনিক যুগের মুহাদ্দিস আলবানী প্রমুখ সবার মতে হাদীসটির সনদ সহীহ। (শারেহে মুসলিম ইমাম নববীর ‘আল মাজমু শারহুল মুহায্যাব’ ৩:৫২৭, সালাতুত তারাবীহ লিল আলবানী, পৃষ্ঠা ৫০ দ্রষ্টব্য)।

(গ) বিশিষ্ট তাবেয়ী হযরত ইয়াযীদ ইবনে রুমান (রহ.) বলেছেন,

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ رُومَانَ أَنَّهُ قَالَ
كَانَ النَّاسُ يَقُومُونَ فِي زَمَانِ عمر بن الخطاب فِي رَمَضَانَ بِثَلَاثٍ وَعِشْرِينَ رَكْعَةً.

বাংলা অনুবাদ : “উমর (রা.)-এর যুগে মানুষ ২৩ রাকাত (২০ তারাবীহ + ৩ বিতর) পড়তেন।” (اسناده صحيح مع الانقطاع)। (মুয়াত্তা মালিক হা/৪০, বায়হাক্বী ২:৪৯৬, ফাতহুল বারী শরহে বুখারী, ৪র্থ খন্ড পৃষ্ঠা নং ৩১৬)।

সনদের অবস্থা:

ইয়াযীদ ইবনে রুমান (রহ.) একজন তাবেয়ী। তিনি সরাসরি উমর (রা.)-এর সাক্ষাৎ পাননি। তাই এটি মুরসাল (مرسل) রেওয়ায়েত। কিন্তু এ রেওয়ায়েতটি মুরসাল হলেও একাধিক উৎস সমর্থন করায় যেমন বায়হাক্বী, ইবনু আবী শায়বাহ, ইমাম মালিকের মুয়াত্তা ইত্যাদি একত্রিত হয়ে এ উৎসটিকে শক্তিশালী করেছে।

মুরসাল রেওয়ায়েতের হুকুম:

‘মুরসাল‘ হাদীস এককভাবে প্রমাণযোগ্য নয়, কারণ সনদে বিচ্ছিন্নতা রয়েছে। তবে, ইমাম আবু হানীফা (রহ.), ইমাম মালিক (রহ.) প্রমুখ ফুকাহা শর্তসাপেক্ষে মুরসাল গ্রহণ করেছেন। যদি একাধিক সূত্রে সমর্থন থাকে (متابعات/شواهد), অথবা বিষয়টি ঐতিহাসিক ঘটনা হয়, তাহলে তা গ্রহণযোগ্যতা পায় এবং প্রমাণশক্তি বৃদ্ধি পায়। ইমাম ইবনু আব্দিল বার (রহ.) তারাবীহ এর রাকাত সংখ্যা সংক্রান্ত মুরসাল বর্ণনাটি সম্পর্কে লিখেছেন,

قالَ إِمَامُ ابْنُ عَبْدِ الْبَرِّ: وَإِنْ كَانَ هَذَا الْحَدِيثُ مُرْسَلًا، فَإِنَّهُ مَدْعُومٌ بِأَمَلِ الْأُمَّةِ وَغَيْرِهَا مِنَ الْآثَارِ، وَقَدْ قَبِلْتُهُ كَأَمَلٍ مُؤَسَّسٍ تَارِيخِيًّا.

অর্থাৎ ইমাম ইবনু আব্দিল বার (রহ.) লিখেছেন “যদিও এই হাদীস মুরসাল, তবুও এটি উম্মাহর আমল ও অন্যান্য আসার দ্বারা সমর্থিত। আর আমি এটিকে ঐতিহাসিকভাবে প্রতিষ্ঠিত আমল হিসেবে গ্রহণ করেছি।”

ইমাম নববী ‘আল-মাজমু‘-এ বলেছেন,

قالَ إِمَامُ النَّوَوِيُّ فِي الْمَجْمُوعِ: إِنَّ صَلَاةَ التَّرَاوِيحِ عِشْرُونَ رَكْعَةً فِي زَمَانِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ مُقَرَّرَةٌ، وَقَدْ بَلَغَتْ مَسْتَوَى إِجْمَاعِ الصَّحَابَةِ، وَرَأَى كَثِيرٌ مِنَ الْعُلَمَاءِ ذَلِكَ.

অর্থাৎ উমর (রা.) এর যুগে তারাবীহ ২০ রাকাত প্রতিষ্ঠিত ছিল, এবং এটি সাহাবায়ে কেরামের ইজমার পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে অনেক আলেম মত দিয়েছেন।

ইমাম ইবনু কুদামাহ হাম্বলীও একই উক্তি ব্যক্ত করেছেন। যেমন তার সম্পর্কে উদ্ধৃত হয়েছে যে,

وَقَالَ إِمَامُ ابْنُ قُدَامَةَ فِي كِتَابِ الْمُغْنِي: وَقَدْ اعْتُمِدَتْ صَلَاةُ التَّرَاوِيحِ عِشْرُونَ رَكْعَةً كَعَمَلٍ مَقْبُولٍ وَمُتَعَاوَدٍ.

অর্থাৎ ইমাম ইবনু কুদামাহ হাম্বলী ‘আল-মুগনী’ কিতাবে লিখেছেন, “২০ রাকাত তারাবীহই গ্রহণযোগ্য ও প্রচলিত আমল হিসেবে নির্ধারিত।”

(ঘ) মুসান্নাফ ইবনু আবী শাইবাহ গ্রন্থে বর্ণিত আছে যে,

حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ حَسَنِ بْنِ صَالِحٍ، عَنْ أَبِي الْحَسَنِ
أَنَّ علي بن أبي طالب رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَمَرَ رَجُلًا يُصَلِّي بِالنَّاسِ فِي رَمَضَانَ عِشْرِينَ رَكْعَةً.

অর্থাৎ “আলী (রা.) রমযানে একজনকে লোকদের নিয়ে বিশ (২০) রাকাত পড়াতে নির্দেশ দেন।”

সনদ বিশ্লেষণ :

এর সনদ ‘মুনকাতে’ তথা সূত্রে রাসূল (সা.) এর সরাসরি সংযোগ নেই। তাই বর্ণনার উক্ত টেক্সট (Text) এককভাবে অথেনটিক না হলেও উম্মাহর আমল বা অন্যান্য সহীহ সনদ দ্বারা সমর্থিত থাকায় এটি ‘প্রমাণ’ হিসেবে গণ্য। বিশেষ করে মালিকি, হাম্বলি ও হানাফি মাযহাবের আলেমদের মধ্যে এটি প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য।

(ঙ) চার মাযহাবের অবস্থান হিসেবেও যদি বলা হয় তাহলে বলা যায় যে, হানাফী মাযহাব মতে, ২০ রাকাত এবং মালিকি মাযহাব মতেও ২০ রাকাত (কিছু স্থানে ৩৬), ইমাম শাফেয়ীর মাযহাবে ২০ রাকাত, ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বলের মাযহাবেও ২০ রাকাত (অধিক পড়াও জায়েজ)। অতএব, ২০ রাকাত হলো সাহাবী ও তাবেয়ীদের যুগের ব্যাপকভাবে প্রচলিত আমল, এবং উম্মাহর জমহুর (অধিকাংশ) আলেমের মত।

(চ) শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়াহ (রহ.) তারাবীহ এর কত রাকাত সুন্নাহ সে সম্পর্কে লিখেছেন,

إِنَّهُ قَدْ ثَبَتَ أَنَّ أبي بْنَ كَعْبٍ كَانَ يَقُومُ بِالنَّاسِ عِشْرِينَ رَكْعَةً فِي قِيَامِ رَمَضَانَ وَيُوتِرُ بِثَلَاثِ. فَرَأَى كَثِيرٌ مِنْ الْعُلَمَاءِ أَنَّ ذَلِكَ هُوَ السُّنَّةُ؛ لِأَنَّهُ أَقَامَهُ بَيْن الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ وَلَمْ يُنْكِرْهُ مُنْكِرٌ

বাংলা অনুবাদ : একথা প্রমাণিত যে, উবাই ইবনে কা’আব (রা.) রমযানে তারাবীহ-তে লোকদের নিয়ে বিশ (২০) রাকাত পড়তেন এবং তিন রাকাত বিতর পড়তেন। তাই অধিকাংশ বিশেষজ্ঞের সিদ্ধান্ত মতে এটাই ‘সুন্নত’। কেননা তিনি (উমর) মুহাজির ও আনসার সাহাবীগণের উপস্থিতিতেই তা আদায় করেছিলেন, কেউ তাতে আপত্তি করেননি। (মাজমূ ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়াহ ২৩:১১২)।

সর্বশেষ কথা হচ্ছে, তারাবীহ সালাতের রাকাত সংখ্যা রাসূল (সা.) থেকে চূড়ান্ত ছিলনা। তাই পরবর্তীতে হযরত উমর (সা.) সাহাবীদের ঐক্যমতে জামাতের সাথে বিশ রাকাত তারাবীহ প্রচলন করেন। মুজতাহিদ চারো ইমামের সকলেই উক্ত বিশ রাকাতের পদ্ধতিকে সমর্থন দিয়ে গেছেন।

প্রাসঙ্গিক কিছু গুরুত্বপূর্ণ আর্টিকেল। তারাবীহ কত রাকাত পড়া সুন্নাহ?

লিখক, মুহাম্মদ নূরুন্নবী এম.এ

তারাবীহ কত রাকাত পড়া সুন্নাহ?

তারাবীহ কত রাকাত পড়া সুন্নাহ? ইখতিলাফ, সনদ ও ইমামগণের মাযহাব পর্যালোচনা :

প্রশ্ন : তারাবীহ এর সালাতের হুকুম কী? ইমামে আ’যম হযরত আবূ হানীফা (রহ.) এর বর্ণনামতে তারাবীহ কত রাকাত সাব্যস্ত? সনদের তাহকীক (বিশ্লেষণ) সহ জানাবেন!

উত্তর : তারাবীহ (تراويح) এর সালাত সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ তথা অনিবার্য সুন্নাহ। এটি গ্রহণযোগ্য কোনো ওজর ছাড়া ত্যাগ করা গুনাহ। রাসূল (সা.) থেকেও তারাবীহ পড়ার প্রমাণ রয়েছে। যদিও সেক্ষেত্রে রাকাত সংখ্যা সুনির্দিষ্ট ছিলনা, কখনো ১০ কখনো ১২ কখনো বা ২০ রাকাত (তবে ইবনু আব্বাস থেকে ২০ রাকাতের বর্ণনাটিতে একজন য’ঈফ রাবী রয়েছেন-লিখক)। নিচে প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ও ফকীহ ইমাম জালালুদ্দীন আস-সুয়ূতী (রহ.) এর “আল হাভী লিল ফাতাওয়া” কিতাব থেকে তারাবীহ সংক্রান্ত একটি আলোচনা তুলে ধরছি-

وَفِي سُنَنِ الْبَيْهَقِيِّ وَغَيْرِهِ بِإِسْنَادٍ صَحِيحٍ عَنِ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ الصَّحَابِيِّ قَالَ: كَانُوا يَقُومُونَ عَلَىٰ عَهْدِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ فِي شَهْرِ رَمَضَانَ بِعِشْرِينَ رَكْعَةً، وَلَوْ كَانَ ذٰلِكَ عَلَىٰ عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَذَكَرَهُ؛ فَإِنَّهُ أَوْلَىٰ بِالْإِسْنَادِ وَأَقْوَىٰ فِي الِاحْتِجَاجِ.
الرَّابِعُ: أَنَّ الْعُلَمَاءَ اخْتَلَفُوا فِي عَدَدِهَا، وَلَوْ ثَبَتَ ذٰلِكَ مِنْ فِعْلِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمْ يُخْتَلَفْ فِيهِ كَعَدَدِ الْوِتْرِ وَالرَّوَاتِبِ.
فَرُوِيَ عَنِ الْأَسْوَدِ بْنِ يَزِيدَ أَنَّهُ كَانَ يُصَلِّيهَا أَرْبَعِينَ رَكْعَةً غَيْرَ الْوِتْرِ، وَعَنْ مَالِكٍ: التَّرَاوِيحُ سِتٌّ وَثَلَاثُونَ رَكْعَةً غَيْرَ الْوِتْرِ؛ لِقَوْلِ نَافِعٍ: أَدْرَكْتُ النَّاسَ وَهُمْ يَقُومُونَ رَمَضَانَ بِتِسْعٍ وَثَلَاثِينَ رَكْعَةً، يُوتِرُونَ مِنْهَا بِثَلَاثٍ. الْخَامِسُ: أَنَّهَا تُسْتَحَبُّ لِأَهْلِ الْمَدِينَةِ سِتًّا وَثَلَاثِينَ رَكْعَةً تَشْبِيهًا بِأَهْلِ مَكَّةَ، حَيْثُ كَانُوا يَطُوفُونَ بَيْنَ كُلِّ تَرْوِيحَتَيْنِ طَوَافًا وَيُصَلُّونَ رَكْعَتَيْهِ، وَلَا يَطُوفُونَ بَعْدَ الْخَامِسَةِ، فَأَرَادَ أَهْلُ الْمَدِينَةِ مُسَاوَاتَهُمْ فَجَعَلُوا مَكَانَ كُلِّ طَوَافٍ أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ، وَلَوْ ثَبَتَ عَدَدُهَا بِالنَّصِّ لَمْ تَجُزِ الزِّيَادَةُ عَلَيْهِ.

বাংলা অনুবাদ : ইমাম বায়হাক্বীর সুনানসহ অন্যান্য গ্রন্থে সহীহ সনদে সাহাবী সাঈব ইবনু ইয়াযীদ (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন: উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর যুগে লোকেরা রমজান মাসে বিশ রাকাত (তারাবীহ) আদায় করতেন। যদি এটি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে প্রতিষ্ঠিত থাকত, তবে তা অবশ্যই উল্লেখ করা হতো; কারণ তাঁর যুগের বর্ণনা সনদের দিক থেকে অধিক উপযুক্ত এবং দলীল হিসেবে অধিক শক্তিশালী। চতুর্থ প্রমাণ: আলেমগণ তারাবীহ এর রাকাত সংখ্যা নিয়ে মতভেদ করেছেন। যদি এটি নবী (সা.)-এর আমল হিসেবে নির্দিষ্টভাবে প্রমাণিত হতো, তবে এতে মতভেদ হতো না— যেমন বিতর ও সুন্নাতে রাওয়াতিবের (নামাযের আগে-পরের গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাতগুলোকে ‘রাওয়াতিব’ বলা হয়) রাকাত সংখ্যায় মতভেদ নেই। বর্ণিত আছে, আসওয়াদ ইবনু ইয়াযীদ (রহ.) বিতর ছাড়া চল্লিশ রাকাত পড়তেন। আর ইমাম মালিক (রহ.)-এর মতে, বিতর ছাড়া তারাবীহ ছত্রিশ রাকাত। কারণ নাফি‘ (রহ.) বলেন: আমি লোকদের পেয়েছি, তারা রমজানে ঊনচল্লিশ রাকাত পড়তেন, যার মধ্যে তিন রাকাত ছিল বিতর। পঞ্চম প্রমাণ: মদিনাবাসীদের জন্য ছত্রিশ রাকাত মুস্তাহাব গণ্য করা হয়েছে— মক্কাবাসীদের অনুসরণে। কারণ মক্কার লোকেরা প্রতি দুই তারাবীহর মাঝে একটি করে তাওয়াফ করতেন এবং তার দুই রাকাত নামাজ আদায় করতেন; তবে পঞ্চম তারাবীহর পর তারা তাওয়াফ করতেন না। মদিনাবাসীরা তাদের সমতা রক্ষা করতে প্রত্যেক তাওয়াফের স্থলে চার রাকাত নামাজ নির্ধারণ করেন। যদি তারাবীহর রাকাত সংখ্যা কুরআন-হাদীসের সুস্পষ্ট نص (দলীল) দ্বারা নির্ধারিত হতো, তবে তাতে বাড়ানো বৈধ হতো না। (আল হাভী লিল ফাতাওয়া, কিতাবুত সালাত অধ্যায় নং ৪০, ইমাম সুয়ূতী)।

ইমাম মালিক আর ইমাম বুখারীর তারাবীহ :

‘মুয়াত্তা মালিক’ আর ‘সহীহ বুখারী’ সহ নানা সোর্স থেকে কতেক সহীহ হাদীসের নামে যারা তারাবীহ আট (৮) রাকাত বলে দাবী করেন তারা ইমাম মালিক আর ইমাম বুখারী ‘তারাবীহ’ কত রাকাত পড়তেন সে বিষয়ে একটু খোঁজ নিতে পারেন। কারণ ইমাম মালিকের তারাবীহ বিতর সহ ২৩ থেকে ৩৯ রাকাত ছিল, মোটেও ৮ ছিল না। তেমনি ইমাম বুখারীর তারাবীহও ছিল ২০ রাকাত। তিনি তারাবীহ শেষ করে পৃথকভাবে ‘তাহাজ্জুদ’ পড়তেন। ইমাম ইবনে হাজার আসকালানীর ”ফাতহুল বারী শরহে সহীহ বুখারী” এর ১/৬৫৩ এর মুকাদ্দামাহ هدى السارى (হাদীউস সারী) অংশে এ কথা উল্লেখ রয়েছে। আর ইমাম বায়হাক্বী (রহ.) নিজ ‘সুনান’ গ্রন্থে ‘হাদীউস সারী’ কিতাবের উক্ত বর্ণনার সনদ (সূত্র) উল্লেখ করেছেন এবং টিকায় পরিষ্কার লিখে দিয়েছেন যে, لَا بَأْسَ فِيهِ অর্থাৎ “এর সনদে কোনো সমস্যা নেই।” (শু’আবুল ঈমান লিল বায়হাক্বী, খ-৩, পৃ-৫২৪-৫২৫)।

ইমাম বুখারীর তারাবীহ সম্পর্কে :

“যখন রমাযানের প্রথম রাত আসতো তখন মুহাম্মদ বিন ইসমাঈল বুখারী (রহ.)-এর শিষ্যরা (ছাত্ররা) তাঁর কাছে একত্র হয়ে যেতো। তারপর তিনি তাদের নিয়ে (তারাবীহ) সালাত পড়তেন। প্রতি রাকাতে তিনি বিশ আয়াত তেলাওয়াত করতেন। আর এভাবে তিনি (কুরআন) খতম করতেন। আর যখন সাহরীর (তাহাজ্জুদের) সময় হয়ে যেত, তখন তিনি অর্ধেক থেকে কুরআনের একতৃতীয়াংশ তেলাওয়াত করতেন। এভাবে সাহরীতে তিন দিনে (কুরআন) খতম করতেন।”

বলাবাহুল্য, বর্তমান যামানার কতিপয় সহীহ ডিলারদের মতো পূর্ববর্তী গবেষকগণ এখতিলাফি কোনো বিষয়ে একে অন্যকে আক্রমণ করে মত প্রকাশ করেননি, নিজের মতকে অন্যের উপর চাপিয়ে দেননি। উম্মাহার মাঝে অনৈক্য সৃষ্টি করেননি। আলাদা মসজিদ নির্মাণ করতে তারা কাউকে কখনো উত্তেজিত করেননি, বরং তাঁরা প্রত্যেকে এধরণের এখতিলাফি বিষয়গুলোকে সীমিত কাঠামোর ভেতরে ও বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে চর্চা করে গেছেন। মজার ব্যাপার হল, নিজ নিজ মতভিন্নতার ঊর্ধ্বে উঠে তারা সকলেই স্ব স্ব মাযহাবের প্রধান ইমামের মাযহাব (চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত/ফতুয়া) অনুসারেই আমল করে গেছেন।

প্রথমতঃ

ইমামে আ’যম হযরত আবূ হানীফা (রহ.) এর বর্ণনামতে তারাবীহ ২০ রাকাত পড়া সাব্যস্ত। ইমাম বুখারীর (জন্ম-মৃত্যু ১৯৪–২৫৬ হি.) সমসাময়িক বিখ্যাত হাফিযুল হাদীস হযরত আবূ বকর আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবী শাইবাহ আল-আবসী আল-কূফী (রহ.) {জন্ম ১৫৯- মৃত্যু ২৩৫ হি.} হতে বর্ণিত, (তিনি বলেন)

حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ أَبِي حَنِيفَةَ، عَنْ حَمَّادٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، أَنَّ النَّاسَ كَانُوا يُصَلُّونَ خَمْسَ تَرْوِيحَاتٍ فِي رَمَضَانَ

বাংলা অনুবাদ : ওয়াকী‘ আমাদেরকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু হানীফা থেকে, তিনি হাম্মাদ থেকে, তিনি ইবরাহীম (নাখঈ) থেকে বর্ণনা করেন যে—
“নিশ্চয়ই মানুষরা রমযান মাসে পাঁচ ‘তরওয়ীহা’ আদায় করত।”

(রেফারেন্স :- মুসান্নাফ ইবনু আবী শাইবাহ, কিতাবুস সালাত, অধ্যায় কিয়ামু রমাযান ২য় খন্ড, হাদীস নম্বর ৭৬৯২)।

পাঁচ ‘তরওয়ীহা’ এর ব্যাখ্যা :

এক “তরওয়ীহা” বলতে চার রাকাতের পর বিশ্রামের অংশ বোঝানো হয়। অতএব, পাঁচ তরওয়ীহা = ৫ × ৪ = ২০ রাকাত।

সনদ বিশ্লেষণ :

১. وكيع بن الجراح (মৃ. ১৯৭ হি.) সম্পর্কে
ইমাম আহমদ (রহ.) বলেছেন, ثقة ثبت তথা নির্ভরযোগ্য ও সাব্যস্ত। ইমামু জারহু ওয়াত তা’দীল ইয়াহইয়া ইবনু মাঈন (রহ.) বলেছেন, ثقة তথা নির্ভরযোগ্য। তিনি সর্বসম্মতিক্রমে নির্ভরযোগ্য হাফিযুল হাদীস। হানাফী ফিকহের চল্লিশ সদস্যের হেভিওয়েট সদস্যের অন্যতম ফকীহ কেবিনেট।

২. أبو حنيفة النعمان (মৃ. ১৫০ হি.) সম্পর্কে ইমাম ইয়াহইয়া ইবনু মাঈন (রহ.) বলেছেন, لَيْسَ بِهِ بَأْسٌ তথা তাঁর বর্ণনায় কোনো সমস্যা নেই।

ইমাম ইয়াহইয়া ইবনু মা’ঈন (রহ.) আরও বলেছেন,

ثِقَةٌ مَا سَمِعْتُ أَحَدًا ضَعَّفَهُ هَذَا شُعْبَةُ بْنُ الْحَجَّاجِ يَكْتُبُ إِلَيْهِ أَنْ يحدث ويأمره وَشعْبَة شُعْبَة

“তিনি একজন সিকাহ (নির্ভরযোগ্য)। কেউ তাঁকে দুর্বল বলেছেন বলে আমি শুনিনি। এ তো শু’বাহ ইবনুল হাজ্জাজ, তিনি আবূ হানীফাকে হাদীস বর্ণনা করতে লিখে পাঠান এবং অনুরোধ করেন। আর শু’বাহ তো শু’বাহ-ই।” (ইমাম ইবনু আব্দিল বার, আল-ইনতিকা পৃ. ১২৭, সনদ সহীহ)।

ইমাম ইয়াহইয়া ইবনু মাঈন (রহ.) আরও বলেন, ثِقَةٌ، لَا يُحَدِّثُ بِالْحَدِيثِ إِلَّا بِمَا يَحْفَظُهُ، وَلَا يُحَدِّثُ بِمَا لَا يَحْفَظُ. هٰكَذَا قَالَ يَحْيَى ابْنُ مَعِينٍ. سِيَرُ أَعْلَامِ النُّبَلَاءِ لِلذَّهَبِيِّ অর্থাৎ তিনি একজন সিকাহ (বিশ্বস্ত)। তিনি সেসব হাদীসই বর্ণনা করতেন যা তাঁর মুখস্ত আর তিনি সেসব হাদীস বর্ণনা করতেন না যা তিনি মুখস্ত রাখতেন না। (সিয়ারু আলামিন নুবালা, ইমাম যাহাবী ৬/৩৯৫)।

ইমাম মক্কি বিন ইবরাহীম (রহ.) বলেছেন, كَانَ أَبُو حَنِيفَةَ أَعْلَمَ أَهْلِ زَمَانِهِ অর্থাৎ আবু হানীফা তার সময়কালের শ্রেষ্ঠ আলেম ছিলেন। (মানাকীবে ইমাম আবূ হানীফা, ইমাম যাহাবী পৃ-৩২)।

ইমাম নাসাঈ (রহ.) বলেছেন, لَيْسَ بِالْقَوِيِّ فِي الْحَدِيثِ অর্থাৎ তিনি হাদীস বর্ণনায় শক্তিশালী নন।

ইমাম ইবনু হাজার আসকালানী (রহ.) বলেছেন, صَدُوقٌ فَقِيهٌ অর্থাৎ তিনি একজন সত্যবাদী ও ফকীহ (প্রাজ্ঞ)। তিনি ‘ফাতহুল বারী’ কিতাবে স্পষ্ট করে লিখেছেন যে, ইমাম আবূ হানীফা সম্পর্কে ইমাম নাসাঈ’র মতটি তার একান্ত নিজেস্ব মত, এটিকে বাধ্যতামূলক মনে করা উচিত নয় আর এর দ্বারা আবূ হানীফার স্থায়ী মর্যাদা ও ন্যায়পরায়ণতাকে হ্রাস করতে দেয়াও ঠিক নয়।

ইমাম শাফেয়ী (রহ.) বলেছেন, النَّاسُ عِيَالٌ عَلَى أَبِي حَنِيفَةَ فِي الفِقْهِ مَا رَأَيْتُ أَحَدًا أَفْقَهَ مِنْ أَبِي حَنِيفَةَ অর্থাৎ “মানুষ ফিকহে আবূ হানীফার উপর নির্ভরশীল। আমি আবূ হানীফা চেয়ে কাউকে অধিক শ্রেষ্ঠ ফকীহ দেখিনি।” (তারীখে বাগদাদ ১৫/৪৭৪, খতীবে বাগদাদী)। উদ্ধৃতিটি হাদীসের মতো সহীহ হিসবে গণ্য না হলেও, এটি ঐতিহাসিক মন্তব্য (اثر معتبر تاريخي) হিসেবে গ্রহণযোগ্য। পরবর্তী অনেক আলেম ও গবেষক এতে সালাফদের উচ্চ শ্রদ্ধা ও আবূ হানীফা (রহ.) এর জ্ঞান‑গুণ সম্পর্কে প্রতিপন্ন করেছেন।

ইমাম মালিক (রহ.) বলেছেন, أَبُو حَنِيفَةَ ثِقَةٌ فِي عِلْمِهِ وَفَقِيهٌ অর্থাৎ “আবূ হানীফা তাঁর জ্ঞান ও ফিকহে বিশ্বাসযোগ্য।” (তারীখে বাগদাদ ১৫/৪৭৪-৭৫, খতীবে বাগদাদী)।

শিদ্দাদ ইবনু হাকিম (রহ.) বলেছেন, قَالَ شِدّادُ بْنُ حَكِيم مَا رَأَيْتُ أَحَدًا أَعْلَمَ مِنْ أَبِي حَنِيفَةَ অর্থাৎ “আমি কাউকে আবূ হানীফা‑র চেয়ে বেশি জ্ঞানী দেখিনি।” (তারীখে বাগদাদ ১৫/৪৭৩-৭৫, খতীবে বাগদাদী)।

ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ.) বলেছেন, إِنَّهُ كَانَ مِنَ العِلْمِ وَالوَرَعِ وَالزُّهْدِ وَإِيثَارِ الآخِرَةِ بِمَحَلٍّ لَا يُدْرِكُهُ أَحَدٌ، وَلَقَدْ ضُرِبَ بِالسِّياطِ لَيْلِيَّ القَضَاءِ فَلَمْ يَفْعَلْ অর্থাৎ “তিনি ছিলেন জ্ঞান, ধার্মিকতা, দুনিয়াবিমুখ এবং পরকালের লাভকে অগ্রাধিকার দানকারী হিসেবে এমন এক উচ্চতায় পৌঁছেছিলেন যা কেউই লাভ করতে পারবে না। তাঁকে বিচারক পদে মনোনীত করতে চাবুক দিয়ে আঘাত করা হলেও তিনি তাতে সাড়া দেননি।” (হাশিয়ায়ে রদ্দুল মুহতার ১/৬৪, ইবনুল আবেদীন, মানাকিবুল ইমাম আবী হানীফা লিয-যাহাবী, পৃষ্ঠা ৪৩)।

ইমাম বুখারীর উস্তাদের উস্তাদ ইমাম ইবনুল মুবারক (রহ.) {জন্মমৃত্যু ১০২-১৮৯ হি.} বলেছেন, قَوْلُ أَبِي حَنِيفَةَ عِنْدَنَا أَثَرٌ إِذَا لَمْ يَكُنْ فِيهِ أَثَرٌ অর্থাৎ আবূ হানীফার বক্তব্য (রায়ের ক্ষেত্রে) হাদীসের মতো গ্রহণযোগ্য, যখন হাদীস না থাকবে। (মানাকিবুল ইমাম আবু হানীফা ওয়া আসহাবাইহি-২১১, ইমাম যাহাবী)।

ইমাম শু’বাহ (রহ.) বলেছেন, أَبُو حَنِيفَةَ ثِقَةٌ فِي فِقْهِ وَعِلْمِهِ অর্থাৎ “আবূ হানীফা তাঁর ফিকহ ও জ্ঞানে বিশ্বাসযোগ্য।” (তারীখে বাগদাদ ১৫/৪৭৪, বাগদাদী)।

শায়খুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়াহ (রহ.) বলেছেন, إِنَّ أَبَا حَنِيفَةَ، وَإِنْ كَانَ النَّاسُ خَالَفُوهُ فِي أَشْيَاءَ، وَأَنْكَرُوهَا عَلَيْهِ، فَلَا يَسْتَرِيبُ أَحَدٌ فِي فِقْهِهِ وَفَهْمِهِ وَعِلْمِهِ، وَهُوَ مِنْ أَئِمَّةِ الْعُلَمَاءِ فِي الْفِقْهِ وَالرَّأْيِ وَالْإِجْمَاعِ عَلَى أَثَرِهِ অর্থাৎ “নিশ্চয়ই আবু হানীফা যদিও মানুষ তাঁকে কিছু বিষয়ে বিরোধীতা করেছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে সমালোচনা করেছে, তবু কেউ তাঁর ফিকহ, বুঝ এবং জ্ঞান সম্পর্কে সন্দেহ করতে পারে না। তিনি ফিকহ, রায় বিষয়ে বিজ্ঞ ইমামগণের অন্যতম। তাঁর অনুসরণের ব্যাপারে ইজমা (ঐক্যমত) রয়েছে।” (মিনহাজুস সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ, শায়খ ইবনু তাইমিয়াহ-২/৬১৯)।

এভাবে আরও অসংখ্য তা’দীল রয়েছে ইমামে আ’যম আবূ হানীফা (রহ.) সম্পর্কে।

৩. حماد بن أبي سليمان (মৃ. ১২০ হি.) সম্পর্কে ইমামগণ বলেছেন, ثقة فقيه তথা নির্ভরযোগ্য ও ফকীহ। তিনি হযরত ইবরাহীম নাখঈ (রহ.) এর প্রধান শাগরেদ ও নির্ভরযোগ্য।

৪. إبراهيم النخعي (মৃ. ৯৬ হি.) তিনি একজন
كبار التابعين তথা প্রবীণ তাবেয়ীগণের অন্তর্ভুক্ত। তিনি
সর্বসম্মতভাবে ثقة তথা নির্ভরযোগ্য। তিনি উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা (রা.) নিকট শৈশবে দ্বীন শিক্ষা করেছেন। তিনি অসংখ্য সাহাবীর কাছ থেকেও হাদীস শিক্ষা গ্রহণ করেছেন।

সনদের সামগ্রিক মূল্যায়ন :

সনদ মুত্তাসিল (সংযুক্ত)। এখানে কোনো মাতরূক বা মিথ্যুক রাবী নেই। তাই এই আসার/আছারটির সনদকে বলা যায়: حسن الإسناد (হাসানুল ইসনাদ) বা গ্রহণযোগ্য।

সমর্থনকারী দলীল :

ইবরাহীম নাখ’ঈ কুফার ফকীহ। কুফাবাসীদের আমল ২০ রাকাত ছিল—অন্যান্য আসারেও পাওয়া যায়। হযরত উমর (রা.)-এর যুগে তারাবীহ ২০ রাকাতের উপর সাহাবায়ে কেরামের ‘ইজমা’ (ঐক্যমত) প্রতিষ্ঠা সংক্রান্ত বর্ণনা উক্ত আসারকে ঐতিহাসিকভাবে শক্তিশালী করে।

বর্ণনাটির ধরণ :

বিশিষ্ট তাবেয়ী, ফকীহ ও হাফিযুল হাদীস ইবরাহীম নাখ’ঈ (রহ.) এর বর্ণিত রেওয়ায়েতটি ‘মাকতু’ তথা একজন তাবেয়ীর বক্তব্য। বলাবাহুল্য যে, বিশিষ্ট তাবেয়ী ও ফকীহ ইবরাহীম নাখ’ঈ (রহ.) এর মাকতু পর্যায়ের রেওয়ায়েতটি দলীল প্রমাণ হিসেবে সকলের নিকট গ্রহণযোগ্য। তার কারণ এই যে, তিনি এমন একজন মর্যাদাপ্রাপ্ত রাবী বা হাদীস বর্ণনাকারী হিসেবে মুহাদ্দিসগণের নিকট প্রসিদ্ধ যে, তিনি শুধু বিশ্বস্ত (সিক্বাহ) রাবীদের কাছ থেকে রেওয়ায়েত নেন। ফলে তাঁর ‘তাদলীস’ (সনদের প্রচ্ছন্ন ত্রুটিসহ কৃত রেওয়ায়েত) বা ‘মুরসাল’ (সনদের শুরুর দিক থেকে সাহাবী বা তাবেয়ীর নাম বাদ দিয়ে রাসূল সা. থেকে সরাসরি কৃত রেওয়ায়েত) গ্রহণযোগ্য। এ সম্পর্কে ইমাম ইবনু আব্দিল বার মালেকী (রহ.) ‘আত তামহীদ’ কিতাবে লিখেছেন,

وَكُلُّ مَنْ عُرِفَ أَنَّهُ لَا يَأْخُذُ إِلَّا عَنْ ثِقَةٍ فَتَدْلِيسُهُ وَمُرْسَلُهُ مَقْبُولٌ فَمَرَاسِيلُ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ وَمُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ وَإِبْرَاهِيمَ النَّخَعِيِّ عِنْدَهُمْ صِحَاحٌ.

বাংলা অনুবাদ : প্রত্যেক ঐ রাবী যার সম্পর্কে এটা প্রসিদ্ধ যে, তিনি শুধু সিক্বাহ রাবীদের থেকেই রেওয়ায়েত নেন, তার তাদলীস এবং মুরসাল রেওয়ায়েত গ্রহণযোগ্য। এজন্য সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব (রহ.), ইমাম মুহাম্মদ ইবনে শিরীন (রহ.) এবং ইবরাহীম নাখ’ঈ (রহ.) এঁদের মুরসাল রেওয়ায়েত-সমূহ মুহাদ্দিসদের নিকট সহীহ। (আত-তামহীদ ১:৩০, ইমাম আবূ উমর ইবনে আব্দিল বার আল মালেকী রহঃ)।

দ্বিতীয়তঃ

ইমামে আ’যম আবূ হানীফা (রহ.) এর ‘কিতাবুল আসার’ থেকে পূর্ণ সনদ সহ আরেকটি রেওয়ায়েত নিম্নরূপ, ইমাম আবূ ইউসুফ (রহ.) বর্ণনা করেছেন,

أَبُو حَنِيفَةَ عَنْ حَمَّادٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ أَنَّ النَّاسَ كَانُوا يُصَلُّونَ خَمْسَ تَرْوِيحَاتٍ فِي رَمَضَانَ

বাংলা অনুবাদ : হযরত ইমাম আবু হানীফা (রহ.) তিনি হযরত হাম্মাদ বিন আবু সুলাইমান থেকে, তিনি হযরত ইবরাহীম আন নাখ’ঈ তাবেয়ী (মৃত্যু-৯৬ হিজরী) থেকে, তিনি বলেছেন,

“নিশ্চয় লোকেরা (সাহাবী ও তাবেয়ীগণ) রমযান মাসে পাঁচ তারবীহার সাথে (অর্থাৎ বিশ রাকাত) তারাবীহ সালাত পড়তো।” (কিতাবুল আসার, ইমাম আবূ ইউসুফ রহ. বর্ণনাকৃত)। আরও দেখুন, আল মওসুআতুল হাদীসিয়্যাহ খন্ড ৯ পৃষ্ঠা ১০।

কিতাবুল আসার (كتاب الآثار) সম্পর্কে :

ইমামে আ’যম আবূ হানীফা রাহিমাহুল্লাহ-এর অনবদ্য সংকলন কিতাবুল আসার/কিতাবুল আছার (كتاب الآثار) প্রসঙ্গে কিছু তথ্য পেশ করা হল,

বিশিষ্ট মুহাদ্দিস শায়খ ডক্টর খন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রহ.) লিখেছেন, ইমাম আবূ হানীফা (রহ.)-এর যুগের আলিমগণ সাধারণত প্রচলিত পরিভাষায় গ্রন্থ রচনা করতেন না, বরং তাঁরা যা বলতেন তা ছাত্ররা লিখতেন। এজন্য তাবিয়ী যুগে বা ১৫০ হিজরী সালের মধ্যে মৃত্যুবরণকারী আলিমদের লেখা বা সংকলিত পৃথক গ্রন্থাদির সংখ্যা খুবই কম। তাঁদের ছাত্রগণের লেখায় তাঁদের বক্তব্য সংকলিত। কখনো কোনো ছাত্র তাঁদের বক্তব্য একক পুস্তিকায় সংকলন করতেন। কখনো তাঁরা নিজেরাই কিছু তথ্য সংকলন করতেন। ইমাম আবূ হানীফার লেখা বলতে কখনো তাঁর নিজের সংকলন এবং কখনো তাঁর কোনো ছাত্র কর্তৃক তাঁর বক্তব্য বা তাঁর বর্ণিত হাদীস সংকলন বুঝানো হতে পারে। উভয় ক্ষেত্রেই তা ‘ইমাম আবূ হানীফা’-র নামে প্রচারিত হতে পারে। এ মূলনীতির ভিত্তিতে ইমাম আবূ হানীফা রচিত ও সংকলিত প্রধান গ্রন্থ ‘কিতাবুল আসার’।

মুহাদ্দিসগণের পরিভাষায় ‘আসার’ (الآثار) বলতে সাহাবী, তাবিয়ী ও তাবি-তাবিয়ীগণের বক্তব্য বা কর্ম বুঝানো হয়। সাধারণভাবে ‘আসার’ এর মধ্যে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর হাদীসও অন্তর্ভুক্ত করা হয়। দ্বিতীয় হিজরী শতকে মুহাদ্দিসগণ রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর হাদীসের সাথে সাহাবীগণের বক্তব্যও সংকলন করতেন এবং ফিকহী পদ্ধতিতে বিন্যাস করতেন। এরূপ গ্রন্থগুলো ‘মুআত্তা’, ‘মুসান্নাফ’ বা ‘কিতাবুল আসার’ নামে পরিচিত।

ইমাম আবূ হানীফা সংকলিত ‘কিতাবুল আসার’ তাঁর কয়েকজন ছাত্র বর্ণনা করেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: যুফার ইবন হুযাইল (১৫৮ হি.), আবূ ইউসুফ (১৮২ হি.), মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান (১৮৯ হি.), হাসান ইবন যিয়াদ লুলুয়ী (২০৪ হি.)। তন্মধ্যে আবূ ই্উসূফ এবং মুহাম্মাদ বর্ণিত ‘কিতাবুল আসার’ দুটো পৃথক গ্রন্থ হিসেবে প্রকাশিত। এ গ্রন্থদুটোতে ইমাম আবূ ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মাদ ইমাম আবূ হানীফা বর্ণিত হাদীসে নববী এবং সাহাবী-তাবিয়ীগণের বক্তব্য সংকলন করেছেন। উল্লেখ্য যে, উভয় গ্রন্থের অধিকাংশ ‘আসার’ বা হাদীস একই। মূলত গ্রন্থদুটো ইমাম আবূ হানীফা সংকলিত কিতাবুল আসারের পৃথক বর্ণনা মাত্র। ইমাম মালিকের মুআত্তা গ্রন্থটি যেমন বিভিন্ন ছাত্র বিভিন্ন সময়ে শ্রবণ ও বর্ণনা করার কারণে অনেকগুলো মুআত্তার সৃষ্টি হয়েছে। অনুরূপভাবে ইমাম আবূ হানীফা সংকলিত কিতাবুল আসার ইমাম মুহাম্মাদ ও ইমাম আবূ ইউসুফ পৃথকভাবে বর্ণনা করার কারণে উভয়ের মধ্যে কিছু ব্যতিক্রম সৃষ্টি হয়েছে।

‘কিতাবুল আসার’ (كتاب الآثار) ছাড়াও ইমাম আবূ হানীফা সংকলিত হাদীসগুলো ‘মুসনাদে আবী হানীফা’ নামে বর্ণিত ও গ্রন্থায়িত। তাঁর কয়েকজন ছাত্র তাঁর মুসনাদ বর্ণনা করেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন:

১. ইমাম আবূ হানীফার পুত্র হাম্মাদ ইবন আবূ হানীফা (১৮০ হি.)

২. মুহাম্মাদ ইবন খালিদ ওয়াহবী (২০০ হি.)

৩. আবূ আলী হাসান ইবন যিয়াদ লু’লুয়ী (২০৪ হি.)

চতুর্থ হিজরী শতক থেকে ষষ্ঠ হিজরী শতক পর্যন্ত সময়ে কয়েকজন মুহাদ্দিস ইমাম আবূ হানীফার সূত্রে বর্ণিত হাদীসগুলো তাঁদের সনদে সংগ্রহ করে ‘মুসনাদ আবী হানীফা’ নামে সংকলন করেন। তাঁদের অন্যতম,

(১) উমার ইবনুল হাসান ইবনুল আশনানী বাগদাদী (৩৩৯ হি.)

(২) আবূ মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ ইবন মুহাম্মাদ ইবন ইয়াকূব ইবনুল হারিস আল-হারিসী আল-বুখারী আল-উসতাদ (৩৪০ হি.)

(৩) আবূ আহমদ আব্দুল্লাহ ইবন আদী জুরজানী (৩৬৫ হি.)

(৪) আবুল কাসিম তালহা ইবন মুহাম্মাদ ইবন জা’ফার মুআদ্দিল শাহিদ বাগদাদী (৩৮০ হি.)

(৫) আবুল হুসাইন মুহাম্মাদ ইবনুল মুযাফ্ফার ইবন মূসা ইবন ঈসা ইবন মুহাম্মাদ বাগদাদী (৩৭৯ হি.)

(৬) আবূ নুআইম ইসপাহানী আহমদ ইবন আব্দুল্লাহ (৪৩০ হি.)

(৭) আবূ বকর আহমদ ইবন মুহাম্মাদ কালায়ী কুরতুবী (৪৩২ হি.)

(৮) আবূ বাকর মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল বাকী ইবন মুহাম্মাদ ইবন মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল্লাহ আনসারী খাযরাজী (৫৩৫ হি.)

(৯) আবূ আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনুল হুসাইন ইবন মুহাম্মাদ ইবন খসরু বালখী বাগদাদী (৫২৬ হি.)

(১০) আবুল কাসিম আব্দুল্লাহ ইবন মুহাম্মাদ ইবন আবিল আওয়াম সা’দী।

তিনি মিসরের বিচারপতি ছিলেন। তাঁর মৃত্যু তারিখ জানা যায় না। তবে তিনি ইমাম নাসায়ীর (৩০৩ হি.) ছাত্র ছিলেন (সিয়ারু আলামিন নুবালা ১৪/১২৭, ইমাম যাহাবী)। এছাড়া তাঁর পৌত্র মিসরের বিচারপতি আহমদ ইবন মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন আবিল আওয়াম হিজরী ৩৪৯ সালে জন্মগ্রহণ এবং ৪১৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন। এ হিসেবে প্রতীয়মান হয় যে, তিনি চতুর্থ হিজরী শতকের প্রথমার্ধে ৩৩০-৩৪০ হিজরী সালের দিকে মৃত্যুবরণ করেন। (তারাজিমুল হানাফিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ১৪৯-১৫০ ইমাম তকি উদ্দীন ইবনে আব্দিল কাদির আত তামিমি আল গায্যী (মৃত. ১০১০ হি.); তাবাকাতুল হানাফিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ১০৬-১০৭ ইমাম আবুল ওয়াফা আল কারশী (৬৯৬-৭৭৫ হি.); আল-আ’লাম ১/২১১, ইমাম খায়রুদ্দীন আয যিরকলী আল দামেস্কী মৃত. ১৩৯৬ হি.)।

এগুলোর মধ্যে আবূ মুহাম্মাদ হারিসী সংকলিত মুসনাদ এবং আবূ নুআইম ইস্পাহানি সংকলিত মুসনাদ গ্রন্থ দুটি মুদ্রিত।

সপ্তম হিজরী শতকের প্রসিদ্ধ আলিম ইমাম আবুল মুআইয়িদ মুহাম্মাদ ইবন মাহমূদ খাওয়ারিযমী (৬৬৫ হি.) ‘জামিউল মাসানীদ’ বা ‘মুসনাদগুলোর সংকলন’ নামক একটি গ্রন্থে ‘মুসনাদ আবী হানীফা’ নামে প্রসিদ্ধ গ্রন্থগুলোতে বিদ্যমান হাদীসগুলো একত্রে সংকলন করেন।

সুতরাং সাব্যস্ত হচ্ছে যে, ইসলামী শরীয়ত তারাবীহকে সুন্নাতে মুয়াক্কাদা হিসেবে বিবেচনা করে। আর বিশিষ্ট ফকীহ ও তাবেয়ী ইমাম ইবরাহীম নাখ’ঈ’র কথাটি সাহাবীদের যুগে মুসলমানগণ তারাবীহ বিশ (২০) রাকাত পড়তেন বলেই ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণ করে। কাজেই আট (৮) রাকাত সম্পর্কিত রেওয়ায়েতগুলো হতে ‘তারাবীহ’ উদ্দেশ্য হবেনা, বরং ‘তাহাজ্জুদ’ উদ্দেশ্য। কেননা ঐ সকল রেওয়ায়েতের মধ্যে উক্ত আট রাকাত রমাযান এবং রমাযানের বাহিরেও পড়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। অথচ রমাযানের বাহিরে শুধু ‘তাহাজ্জুদ’ থাকতে পারে কিন্তু ‘তারাবীহ’ নয়। আর যারা উক্ত আট রাকাতকেই ‘তারাবীহ’ হিসেবে বিবেচনা করে থাকেন তাদের মতে ‘তারাবীহ’ নামে স্বতন্ত্র কোনো সালাত নেই। তাদের মতে তারাবীহ আর তাহাজ্জুদ দুটো একই সালাত। কিন্তু এ লোকগুলোকে যদি জিজ্ঞেস করা হয় যে, ‘তাহাজ্জুদ’ কি ইশার সালাতের পরেই পড়া যাবে? তখন আর তাদের কোনো উত্তর থাকেনা।

চলবে।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু আর্টিকেল। সাহাবায়ে কেরামগণের সর্বসম্মত আমল অনুসারে তারাবীহ কত রাকাত? | তারাবীহ আট রাকাত পড়লে সুন্নাহ আদায় হবে কি? | তারাবীহ কত রাকাত পড়া সুন্নাহ? | মুয়াত্তা মালিক গ্রন্থের আট রাকাত কিয়ামুল লাইলের জবাব

লিখক, মুহাম্মদ নূরুন্নবী এম.এ

ইমাম মাহদী বনাম মির্যা কাদিয়ানী বই থেকে

মুসলমান এবং কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের মাঝে ২০টি পার্থক্য ও প্রামাণ্য স্ক্যানকপি নিম্নরূপ

লিফলেট : আহমদীয়া (অ)মুসলিম জামাত তথা কাদিয়ানীরা কেন মুসলিম নয়?

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

আহমদীয়া মুসলিম (?) জামাত তথা কাদিয়ানী সম্প্রদায় অমুসলিম হওয়ার কারণ

আল্লাহ তায়ালার নিকট একমাত্র মনোনীত ধর্ম হলো ইসলাম। ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো ধর্ম আল্লাহ তাআলার নিকট গ্রহণযোগ্য নয়। ইসলামের সর্বপ্রথম শিক্ষাই হলো ঈমান ও আকীদা। নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আল্লাহ তায়ালা যে দ্বীন ও শরীয়ত এবং কুরআন ও সুন্নাহ দিয়েছেন, এককথায় তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে যা কিছু পেশ করেছেন সব কিছু মনেপ্রাণে বিশ্বাস করা এবং নিঃসংকোচে মেনে নেওয়া, এর নামই ঈমান এবং এর নামই হল ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করা। যে ব্যক্তি দ্বীনে ইসলামের কোনো স্বতঃসিদ্ধ, সর্বজনবিদিত ও যুগ পরম্পরায় প্রতিষ্ঠিত কোনো বিষয়কে অস্বীকার করবে বা তার স্বীকৃত ও প্রতিষ্ঠিত অর্থের বিপরীত কোনো অর্থ করবে সে কাফের ও বেঈমান।

মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী ও তার অনুসারী কাদিয়ানী সম্প্রদায় দ্বীনের অনেক স্বতঃসিদ্ধ ও সর্বজনবিদি বিষয় অস্বীকার করে নিজেরাই মুসলিম উম্মাহ থেকে আলাদা হয়ে গেছে। ইসলামের সাথে যে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই তা তাদের গুরুরা (পাদ্রীরা) স্পষ্টভাবেই স্বীকার করেছে। এ বিষয়ে মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর একটি বক্তব্য তার বড় ছেলে (কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের দ্বিতীয় খলিফা) মির্যা বশীর উদ্দিন মাহমুদ এভাবে উদ্ধৃত করেছে যে,

“হযরত মাসীহে মাওউদ (মির্যা কাদিয়ানী) তো সত্য বলেছেন, তাদের ইসলাম ভিন্ন আর আমাদের ইসলাম ভিন্ন। তাদের খোদা ভিন্ন আর আমাদের খোদা ভিন্ন। আমাদের হজ্জ ভিন্ন আর তাদের হজ্জ ভিন্ন। এমনিভাবে প্রতিটি বিষয়ে তাদের (তথা অ-আহমদীদের) সাথে আমাদের পার্থক্য রয়েছে।” – কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের মুখপত্র দৈনিক আল ফযল তারিখ ২১ আগস্ট ১৯১৭ ইং, পৃ.৮ কলাম নং ১।

কাদিয়ানী সম্প্রদায় কাফের হওয়ার মৌলিক কিছু কারণ

এক. খতমে নবুওয়াতের আকীদা অস্বীকার ও মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী কর্তৃক নবুওয়াতের মিথ্যা দাবি করা :

দ্বীনে ইসলামের অন্যতম মৌলিক আকীদা হলো, খতমে নবুওয়াতের আকীদা। অর্থাৎ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুক্ত ও স্বাধীন শেষনবী। তাঁর পরে কাউকে নবুওয়াত দান করা হবে না। আল্লাহ তাআলা হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর নবুওয়াতের ধারার পরিসমাপ্তি ঘটিয়েছেন।

মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী ‘খতমে নবুওয়াতে’র এই মৌলিক আকীদাকে অস্বীকার করে ১৯০১ সালে সরাসরি নবুওয়াত দাবি করে। নিচে তার নবুওয়াত দাবির দু’টি উদ্ধৃতি উল্লেখ করা হলো-

“আমি ওই খোদার কসম করে বলছি, যার হাতে আমার জীবন, তিনিই আমাকে পাঠিয়েছেন এবং তিনিই আমার নাম নবী রেখেছেন।” – তাতিম্মায়ে হাকীকাতুল ওহী, রূহানী খায়ায়েন ২২/৫০৩ (মির্যা কাদিয়ানীর রচনাসমগ্র)।

“আল্লাহর আদেশ মোতাবেক আমি একজন নবী। আমি এই দাবী অস্বীকার করলে আমার পাপ হবে। যেহেতু আল্লাহ আমাকে নবী নাম দিয়েছেন আমি তা কিভাবে প্রত্যাখ্যান করতে পারি। আমি মরণ পর্যন্ত এই বিশ্বাস আঁকাড়ে থাকব।” – নবুয়ত ও খিলাফত (বাংলা) পৃষ্ঠা নং ৭৬ ; বাংলাদেশের কাদিয়ানীদের মূলকেন্দ্র বকশী বাজার, ঢাকা থেকে প্রকাশিত; আরও দেখুন, মাজমু’আয়ে ইশতিহারাত ২/৭২৫।

দুই. মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী কর্তৃক নিজেকে স্বয়ং মুহাম্মাদূর রাসূলুল্লাহ দাবি করা :

মির্যা কাদিয়ানীর দাবি, সে স্বয়ং মুহাম্মাদূর বাসুলুল্লাহ। তার মাঝে স্বয়ং মুহাম্মাদূর রাসূলুল্লাহর সত্তা বিরাজমান। গোটা কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের আকীদা ও বিশ্বাস হলো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পৃথিবীতে দুইবার আবির্ভূত হয়েছেন। প্রথমবার মক্কায়, দ্বিতীয়বার কাদিয়ানে মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর স্বরূপে।। (নাউযুবিল্লাহ)

মির্যা কাদিয়ানী লিখেছে,

“এর মধ্যে আমার নিজস্ব সত্তা নেই, পরন্তু মুহাম্মদ (সঃ) বিরাজমান। এ কারণে আমার নাম মুহাম্মদ (সঃ) এবং আহমদ (সঃ) হয়েছে। সুতরাং নবুওয়াত এবং রেসালাত অপর কারও নিকট গেল না, মুহাম্মদ (সঃ)-এর বস্তু মুহাম্মাদ (সঃ)-এর নিকট রইল।” – একটি ভুল সংশোধন (বাংলা) পৃষ্ঠা নং ১৫ (বাংলাদেশে কাদিয়ানীদের মূলকেন্দ্র বকশী বাজার, ঢাকা হতে অনূদিত)।

মির্যা কাদিয়ানীর মেজো ছেলে মির্যা বশীর আহমদ এম. এ লিখেছে,

“সুতরাং মাসীহে মাওউদ (মির্যা কাদিয়ানী) স্বয়ং মুহাম্মাদূর রাসুলুল্লাহ। ইসলাম প্রচারের জন্য তিনি দ্বিতীয়বার পৃথিবীতে আগমন করেছেন।” – কালিমাতুল ফসল পৃষ্ঠা নং ৬৬, মির্যাপুত্র বশীর আহমদ এম.এ রচিত।

তিন. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অবমাননা করা :

কাদিয়ানী সম্প্রদায় কাফের হওয়ার বড় একটি কারণ হলো রাসূল (সা.) এর অবমাননা করা। মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী অত্যন্ত জঘন্য পন্থায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শানে বেয়াদবী করেছে। এ বিষয়ে অনেক প্রমাণ রয়েছে। মির্যা কাদিয়ানী তার বইপত্রের বিভিন্ন স্থানে দাবি করেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সকল মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য তার মাঝে বিদ্যমান। (নাউযুবিল্লাহ) মির্যা কাদিয়ানী এক জায়গায় বলেছে-

“বিচ্ছিন্নভাবে সকল নবীর মাঝে যে গুণ-বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান ছিল তার সমষ্টি আরও অধিকহারে রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাঝে বিদ্যমান ছিল। এখন ঐ সকল গুণ-বৈশিষ্ট্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতিচ্ছায়ারূপে আমাকে দেওয়া হয়েছে।” – মালফুযাত (মির্যা কাদিয়ানীর বাণী সংকলন) খন্ড ২ পৃষ্ঠা ২০১ নতুন সংস্করণ।

এ কারণে কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের নিকট রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও মির্যা কাদিয়ানীর মর্যাদা একেবারে বরাবর। বিষয়টি উল্লেখ করতে গিয়ে তারা তাদের মুখপত্র ‘দৈনিক আল ফযল’ পত্রিকায় এভাবে লিখেছে –

“আল্লাহ তায়ালার নিকট হযরত মসীহে মওউদের (তথা মির্যা কাদিয়ানীর) সত্তাটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামেরই সত্তা। অর্থাৎ আল্লাহর খাতায় হযরত মাসীহে মাওউদ ও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাঝে কোনো বৈপরীত নেই, বরং উভয়ের একই অবস্থান, একই মর্তবা, একই মর্যাদা ও একই নাম। শাব্দিকভাবে দুইজন মনে হলেও বাস্তবে একজন।” – কাদিয়ানীদের মুখপত্র দৈনিক আল ফযল, আরিখ ১৬ সেপ্টেম্বর ১৯১৫ ইং, পৃষ্ঠা ৭ কলাম ২।

চার, নবীগণের শানে চরম ধৃষ্টতাপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করা :

মির্যা কাদিয়ানী হযরত ঈসা (আ.) সম্পর্কে লিখেছে,

“ইউরোপের লোকদের মদ যত অনিষ্ট করিয়াছে, তাহার কারণ এই যে, ঈসা (আ.) মদ্যপান করিয়াছেন।” – কিশতিয়ে নূহ (বাংলা অনূদিত) পৃষ্ঠা নং ৮৭ সপ্তম সংস্করণ।

“হযরত ঈসা আলাইহিসরালাম নিজে নৈতিক শিক্ষার ওপর আমল করেননি। আঞ্জির (ডুমুর) গাছ ফলবিহীন দেখে তার ওপর বদ-দোয়া করেছেন। অথচ অন্যদেরকে দোয়া করতে শিখিয়েছেন। অন্যদেরকে এ আদেশও করেছেন যে, তোমরা কাউকে আহমক (বোকা) বলবেনা। অথচ নিজে মুখ-খারাপে এতটাই লাগামহীন হয়ে পড়েছেন যে, ইহুদীদের সম্মানিত ব্যক্তিবর্গকে হারামজাদা পর্যন্ত বলে ছেড়েছেন। তিনি প্রতিটি ওয়াজে ইহুদী উলামাদেরকে কঠিন কঠিন গালি দিয়েছেন এবং তাদের বিভিন্ন খারাপ নাম রেখেছেন। নৈতিক শিক্ষকের জন্য ফরজ প্রথমে নিজে উত্তম চরিত্র দেখানো।” – চশমায়ে মাসীহী, রূহানী খাযায়েন ২০/৩৪৬; (মির্যা কাদিয়ানীর রচনাসমগ্র)।

পাঁচ, কাদিয়ানী সম্প্রদায় কর্তৃক কালিমায়ে তায়্যিবাকে অস্বীকার করা :

কাদিয়ানী সম্প্রদায় কালিমা তায়্যিবা “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ” এর শব্দ-বাক্য ঠিক রেখে তার অর্থ ও মর্মের মাঝে চরম বিকৃতি ঘটিয়ে তারা মূলত কালিমা তায়্যিবাকেই অস্বীকার করেছে। যেহেতু মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী নিজেকে স্বয়ং মুহাম্মাদ রাসূলুল্লাহ দাবি করেছে, তাই কাদিয়ানীরা কালিমার মাঝে ‘মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’ বলে মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীকে উদ্দেশ্য নেয়। কাদিয়ানীরা মির্যা কাদিয়ানীকে নবী মানা সত্ত্বেও তার কালিমা না গড়ে মুসলমানদের মতোই কালিমা কেন পড়ে? এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে মির্যা কাদিয়ানীর মেঝো ছেলে মির্যা বশীর আহমদ এম.এ লিখেছে,

“সুতরাং মাসীহে মওউদ (তথা মির্যা কাদিয়ানী) স্বয়ং মুহাম্মাদূর রাসূলুল্লাহ। ইসলাম প্রচারের জন্য তিনি দ্বিতীয়বার পৃথিবীতে আগমন করেছেন। অতএব আমাদের নতুন কোনো কালিমার প্রয়োজন নেই। তবে মুহাম্মাদূর রাসূলুল্লাহর পরিবর্তে অন্য কারও আগমন ঘটলে নতুন কালিমার প্রয়োজন হত।” – কালিমাতুল ফসল পৃষ্ঠা ৬৮।

ছয়. বিশ্বের সকল মুসলমানকে কাফের আখ্যা দেওয়া :

কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের আকীদা ও বিশ্বাস হলো, যারা মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর উপর ঈমান আনবে না তারা সকলেই কাফের ও বেঈমান। তাদের পেছনে নামায পড়া জায়েয নেই, তাদের কাছে মেয়ে বিবাহ দেয়া জায়েয নেই। তাদের জানাযা পড়াও জায়েয নেই। (নাউযুবিল্লাহ)। মির্যা কাদিয়ানীর একটি বক্তব্য লক্ষ্য করুন,

“আল্লাহ তায়ালা আমাকে জানিয়েছেন, যে ব্যক্তির নিকট আমার দাওয়াত পৌঁছলো কিন্তু সে আমাকে গ্রহণ করল না সে মুসলমান না।” – তাযকিরাহ পৃষ্ঠা ৫১৯ (চতুর্থ এডিশন), হাকীকাতুল ওহী (বাংলা) পৃষ্ঠা ১৩০।

মির্যা বশীর আহমদ এম.এ (মির্যা কাদিয়ানীর মেজো ছেলে) লিখেছে,

“প্রত্যেক ওই ব্যক্তি যে মুসাকে মানে কিন্তু ঈসাকে মানে না, অথবা ঈসাকে মানে কিন্তু মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মানে না, অথবা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মানে কিন্তু মাসীহে মাওউদকে (তথা মির্যা কাদিয়ানীকে) মানে না, সে শুধু কাফের নয় বরং পাক্কা কাফের এবং ইসলামের গণ্ডিবহির্ভূত।” – কালিমাতুল ফসল পৃষ্ঠা ২০।

ওপরে অতি সংক্ষেপে কদিয়ানীদের অমুসলিম হওয়ার মৌলিক কয়েকটি কারণ উল্লেখ করা হলো। এ জাতীয় আরো অনেক উদ্ধৃতি রয়েছে যা প্রমাণ করে কাদিয়ানীরা নিকৃষ্টতম কাফের। তাই আসুন এই ভয়াবহ কুফুরী ফেতনা সম্পর্কে নিজেরা সচেতন হই এবং অন্যকে সচেতন করি। কোনো মুসলমান ভাই যেন কাদিয়ানীদের খপ্পরে পড়ে ঈমানহারা না হয় সে বিষয়ে সতর্ক থাকি। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলের ঈমানকে হেফাজত করুন, আমীন।

সার্বিক যোগাযোগ :

তাহাফফুজে খতমে নবুওয়াত প্রকাশনী

হযরতপুর, কেরানীগঞ্জ, ঢাকা-১৩১৩

মোবাইল: 01646-373084 (আসরের পর থেকে মাগরিব, রাত ৯ টার পর থেকে ১০ টার মধ্যে কল দেয়ার অনুরোধ)।

মুসলিম নামডাক শুনবা এত লোল পরে কেন?

কাফের, মুসলিম, মুমিন এগুলো কার পরিভাষা? ইসলামের পরিভাষা। ইসলাম গ্রহণ করলে তাকে কী বলে? মুসলিম বলে। ঈমান আনলে কী বলে? মুমিন বলে। কুফুরি করলে কী বলে? কাফের বলে। তো আপনি ইসলাম গ্রহণ করবেন, আপনাকে মুসলমান বলা যাবে। আপনি ঈমান আনবেন, আপনাকে মুমিন বলা যাবে। তাহলে কুফুরি করলে কাফের বলা যাবেনা? কি হাস্যকর লজিক! এটা কেমন হাস্যকর লজিক!! কুফুরি / কাফের শুনতে যদি কষ্ট লাগে, তাহলে কুফুরি করেন কেন? কুফুরি ছেড়ে দাও, তওবা করো, ইসলাম গ্রহণ কর। তোমাকে কেউ কাফের বলবেনা। তুমি ইসলামের কাজ করবানা, কুফুরি করবা, আবার মুসলিম নামডাক শুনবা, এত লোল পরে কেন?

আবু মুহাম্মদ রহমানী (হাফিজাহুল্লাহ)।

নবীর শ্রেষ্ঠ গুণ সততা

‘সততা’ ও ‘বিশ্বস্ততা’ নবীর শ্রেষ্ঠ গুণ,

‘আ কুন্তুম মুসাদ্দিকিয়্যা?’ বাক্যের এ খন্ডাংশটি একটি বিখ্যাত হাদীসের অংশ এবং এটি সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম সহ অন্যান্য প্রামাণিক হাদীস গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। এটি নবুওয়াতের প্রাথমিক যুগে নবী মুহাম্মদ (সা.) কর্তৃক মক্কার সাফা পাহাড়ে দাঁড়িয়ে কুরাইশদের প্রকাশ্যে ইসলামের দাওয়াত দেওয়ার ঘটনার অংশ।

হাদীসের প্রাসঙ্গিক অংশ ও বাংলা অনুবাদ :

হাদীসের মূল বার্তা হলো, শেষনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) তাঁর নবুওয়াতের সত্যতা ও বিশ্বস্ততা প্রমাণ করার জন্য এই উপমাটি ব্যবহার করেছিলেন। তিনি ইরশাদ করেছিলেন,

أرَأَيْتَكُمْ لو أخْبَرْتُكُمْ أنَّ خَيْلًا بالوَادِي تُرِيدُ أنْ تُغِيرَ علَيْكُم؛ أكُنْتُمْ مُصَدِّقِيَّ؟ قالوا: نَعَمْ، ما جَرَّبْنَا عَلَيْكَ إلَّا صِدْقًا، قالَ: فإنِّي نَذِيرٌ لَكُمْ بيْنَ يَدَيْ عَذَابٍ شَدِيدٍ

অনুবাদ, “তোমরা কি মনে করো, যদি আমি তোমাদের জানাই যে, এই উপত্যকার ওপার থেকে একদল অশ্বারোহী (শত্রু) তোমাদের আক্রমণ করতে উদ্যত হয়েছে, তোমরা কি আমাকে বিশ্বাস করবে? উত্তরে উপস্থিত সবাই বলেছিল, “হ্যাঁ, আমরা আপনাকে বিশ্বাস করব, কারণ আমরা আপনাকে সবসময় সত্যবাদী হিসেবেই পেয়েছি” (অন্য বর্ণনায়, “আমরা আপনার কাছ থেকে কখনও মিথ্যা শুনিনি”)। এরপর তিনি বলেছিলেন, “তবে আমি তোমাদের আসন্ন কঠিন শাস্তি সম্পর্কে সতর্ক করছি”। (সহীহ বুখারী, ইবনে আব্বাস থেকে)।

এই হাদীসের তাৎপর্য হচ্ছে, এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, নবুওয়াত প্রাপ্তির পূর্ব থেকেই মক্কার লোকেরা, এমনকি তাঁর কট্টর বিরোধীরাও শেষনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে সর্বোচ্চ বিশ্বস্ত ও সত্যবাদী (আল-আমিন) হিসেবে গণ্য করত।

দাওয়াতের পদ্ধতি : তিনি তাদের বিশ্বাস ও আস্থার মানদণ্ড ব্যবহার করে ইসলামের মৌলিক বার্তা – তাওহীদ (একত্ববাদ) এবং আখিরাতের শাস্তি সম্পর্কে সতর্কবাণী পেশ করেছিলেন। আল্লাহ্‌র নির্দেশে (সূরা শু’আরা, ২৬:২১৪) গোপনে দাওয়াতের পরিবর্তে প্রকাশ্যে দাওয়াত শুরু করার এটি ছিল প্রথম ধাপ। এই হাদীসটি সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমের মতো হাদীস গ্রন্থে বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে।

হাদীসটি হতে বুঝা গেল, নবীর সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ গুণ সততা ও বিশ্বাসযোগ্যতা। যদি কেউ সততা এবং নির্ভরযোগ্যতার মানদণ্ডে উত্তীর্ণ না হয় তাহলে তার বিষয়টি সেখানেই সমাপ্ত। সামনে আর বাড়তে দেয়া যাবেনা। কারণ কোনো মিথ্যাবাদী নবুওয়ত ও রেসালত দাবী করার যোগ্যতাই রাখেনা। সুতরাং, আল্লাহর রাসূল (সা.) এর জীবন তথা সীরাত থেকেই আমাদের সবক নিতে হবে।

বলাবাহুল্য যে, ভারতীয় বংশোদ্ভূত মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী সহ ইতিপূর্বে যতজনই নবী রাসূল দাবী করেছিল তাদের জীবন-দর্শন থেকে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া গেছে যে, তারা প্রত্যেকে ছিল চরম মিথ্যাবাদী ও ধোকাবাজ। সুতরাং তারা প্রত্যেকে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার জন্য তাদের ঐ নেতিবাচক ক্যারেক্টারই যথেষ্ট।

মির্যা কাদিয়ানী নিজেকে মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ হওয়ার দাবী করার প্রমাণ তারই ‘একটি ভুল সংশোধন’ পুস্তক থেকে নিম্নরূপ,

লিখক, প্রিন্সিপাল নূরুন্নবী এম এ

কাদিয়ানীদের বয়ানের উপর পালটা বয়ান তৈরি

কাদিয়ানীদের প্রতি এবার এ বয়ানটিও ছুড়ে দিন,

((বয়ান-৩))

মির্যা কাদিয়ানীর বইতেও ঈসা মসীহের পুনরায় আগমনের বয়ান,

সে লিখেছে, “এই আয়াতে (অর্থাৎ সূরা তওবাহ আয়াত নং ৩৩) ইঙ্গিত রয়েছে যে, ঈসা মসীহ সশরীরে ও রাজনৈতিক দর্পণে পৃথিবীতে পুনরায় আসবেন।”

মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর রচিত ‘বারাহীনে আহমদীয়া’ চতুর্থ খন্ড; কাদিয়ানীর রচনাসমগ্র ২৩ খন্ডে প্রকাশিত- রূহানী খাযায়েন ১/৫৯৩

এখন কাদিয়ানীদের প্রশ্ন করতে চাই, যার সশরীরে পুনরায় আগমনী ইঙ্গিত কুরআনেই রয়েছে, সে কুরআনই তাঁকে মৃত সাব্যস্ত করে কিভাবে? প্রামাণ্য স্ক্যানকপি নিম্নরূপ,

কাদিয়ানী বয়ানের উপর পালটা বয়ান তৈরি

কাদিয়ানীদের প্রতি “বয়ান” ছুড়ে দিন এভাবে যে,

((বয়ান-২))

মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী তার বইতে লিখেছে, ঈসা (আ.) একজন শরাবী (মদখোর) ছিল, পতিতা মহিলাদের সাথে তার দহরম মহরম সম্পর্ক ছিল! নাউযুবিল্লাহ। (রেফারেন্স সহ পোস্টের নিচে দীর্ঘ-বাক্যে দেখুন)।

বলে রাখা জরুরি যে, ঈসা (আ.) সম্পর্কে উল্লিখিত উক্তিগুলি তার নিজের বিশ্বাসের জায়গা থেকেই ছিল। এটি শুধুমাত্র খ্রিস্টানদের খন্ডনে পালটা জবাবি তথা ‘ইলজামি জবাব’ রূপে ছিল, এ কথা মোটেও ঠিক না। যদিও কোনো কোনো কাদিয়ানী মতের অনুসারী মির্যা কাদিয়ানীর পক্ষে সাফাই গাইতে গিয়ে এমনটা প্রতিউত্তর করার চেষ্টা করে থাকে।

তাই কাদিয়ানী মতের অনুসারীদের প্রতি আমার চ্যালেঞ্জ রইল, ঈসা (আ.) সম্পর্কে মির্যা কাদিয়ানী নিজ বিশ্বাসের জায়গা থেকে উপরে উল্লিখিত যে আপত্তিকর উক্তি নিজ বইতে লিখে গেছে তা সঠিক এবং বাস্তব প্রমাণ করে দেখান। যদি তা কুরআন হাদীসের আলোকে সঠিক এবং বাস্তব প্রমাণ করে দেখাতে পারেন, তাহলে আমরা মির্যা কাদিয়ানীকে সত্য বলেই মেনে নেব।

আর যদি তা প্রমাণ করতে না পারেন, তাহলে নির্দ্বিধায় আপনারাও মেনে নিতে বাধ্য থাকবেন যে, মির্যা কাদিয়ানী একজন চরম মিথ্যাবাদী ছিল। আর আল্লাহ তায়ালা কোনো মিথ্যাবাদীকে “নবী” তো দূরের কথা; সাধারণ একজন ওলী-আউলিয়াও বানাবেন না, এটাই চূড়ান্ত কথা।

দীর্ঘ-বাক্যে সম্পূর্ণ উদ্ধৃতি :

  • মির্যা কাদিয়ানী লিখেছে, “ইউরোপের লোকদের মদ এভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার কারণ হল, হযরত ঈসা (আ.) মদ পান করত। তা কোন রোগের কারণে বা পুরাতন অভ্যাস থাকার কারণে।” (কিশতিয়ে নূহ পৃষ্ঠা ৮৫ বাংলা অনূদিত, রূহানী খাযায়েন ১৯:৭১)।

আচ্ছা পাঠকবৃন্দ, ঈসা (আ.) সম্পর্কে উল্লিখিত উক্তিটি যার সে একই সাথে ঈসা (আ.)-এর মদ পান করার “কারণ”ও কিন্তু নিজ জবানে বলে দেয়ার পরেও ব্যাপারটি সম্পূর্ণরূপে তার নিজের বিশ্বাসের জায়গা থেকেই নয়, একথা কিভাবে বলা যায়??

  • মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী উলামায়ে কেরামের উদ্দেশ্যে রচিত তার ‘দাফেউল বালা’ নামক বইতে লিখেছে, ‘‘মাসীহের সততা তার সময়কার অন্যান্য সৎ লোকের চেয়ে বেশি বলে প্রমাণিত হয় না; বরং তার চেয়ে ইয়াহইয়া নবীর মর্যাদা এক গুণ বেশি। কেননা, সে মদপান করত না এবং কোনো ব্যভিচারিণী নারী নিজের ব্যভিচার থেকে উপার্জিত অর্থ দ্বারা সুগন্ধি ক্রয় করে তার মাথায় মালিশ করেছে এমন কোনো কথা তার ব্যাপারে শোনা যায়নি। অথবা এমনও জানা যায়নি যে, এরূপ কোনো নারী নিজের হাত বা মাথার চুল দ্বারা তার শরীর স্পর্শ করেছিল অথবা কোনো আনাত্মীয় যুবতী নারী তার সেবা করত। এ কারণে আল্লাহ তাআলা কুরআনে ইয়াহইয়াকে হাসূর (নারী বিরাগী) বলেছেন। কিন্তু মাসীহের এ নামকরণ করা হয়নি। কেননা, উক্তরূপ ঘটনাবলী এরূপ নামকরণের অন্তরায় ছিল।’’ (দাফেউল বালা [উর্দূ] হতে অনুবাদ, মির্যা কাদিয়ানী)।

গোলাম আহমদ কায়িদানীর উক্ত রচনায় হযরত মাসীহ ইবনে মরিয়ম (আ.)-এর প্রতি কয়েকটি অপবাদ পরিদৃষ্ট হয়। (১) তিনি মদ পান করতেন। (২) তিনি ব্যভিচারিণী নারীদের অবৈধ পন্থায় উপার্জিত অর্থ দ্বারা ক্রয়কৃত সুগন্ধি মাথায় লাগাতেন এবং তাদের হাত ও চুল দ্বারা নিজের শরীর স্পর্শ করাতেন। (৩) অনাত্মীয় যুবতী নারীদের থেকে সেবা নিতেন।

অথচ হযরত মসীহ ইবনে মরিয়ম (আ.)-এর মত একজন মহান নবীর প্রতি এসব অশ্লীল ও কদর্য অপবাদ আরোপ করার পর সে এ রায়ও দিয়েছে যে, এসব ঘটনার কারণেই আল্লাহ তাআলা তাকে পবিত্র কুরআনে ‘হাসূর’ (নারী বিরাগী) বিশেষণ দ্বারা বিশেষায়িত করেননি। এতে দৃঢ়ভাবে সাব্যস্ত হচ্ছে যে, উক্ত মানহানিকর কথাগুলো ‘ইলজামি জবাব’ হিসেবে ছিলনা, বরং তার নিজেস্ব বিশ্বাসের জায়গা থেকেই ছিল।

লিখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক